kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ, বিকল্প খোঁজার পরামর্শ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ, বিকল্প খোঁজার পরামর্শ

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর কথা বলে কিছু শর্ত দিয়ে গম রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারত। গত শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়েই।

ভারতের গম আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের মোট গম আমদানির ৫৫ শতাংশের বেশি আসত ভারত থেকে। যুদ্ধ শুরুর পর ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা আরো বেড়ে যায়। ঠিক এমন চ্যালেঞ্জিং সময়ে ভারতের এই ঘোষণার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার শর্তে প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জন্য গম আনার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশকে সেই শর্ত কাজে লাগিয়ে গম আমদানিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প বাজারও খুঁজতে হবে।

ইউরোপের বাজারে গমের চাহিদা মেটায় রাশিয়া ও ইউক্রেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই দুই দেশের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত থেকে গম আমদানির দিকে ঝোঁকে ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশ। ওই সময়ে ভারতও বেশ ভালোভাবেই গমের জোগান দিয়ে আসছিল।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয় বৈঠক করে গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, বিশ্ববাজারে গমের ঘাটতির দিকে নজর রেখে আপাতত রপ্তানি বন্ধ করা হচ্ছে। পরে পরিস্থিতি বিচার করে আবার রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গম পাওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার জন্য ভারত দুটি কারণের কথা বলেছে। একটি হচ্ছে নিজেদের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা সমন্বয়। দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশী এবং খাদ্য ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া। স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ এই সুবিধা প্রাপ্য।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ভারত প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যেভাবে আমাদের পাশে আছে। আগামী দিনেও থাকবে নিশ্চিত। চ্যালেঞ্জিং সময়ে আমরা অবশ্যই ভারত থেকে আগের মতো গম, চাল অন্য ভোগ্য পণ্য আমদানি করতে পারব। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই নিশ্চয়তা আদায় করতে হবে দ্রুততার সঙ্গে। ’

১৩ মের আগের ঋণপত্রের গম আনতে বাধা নেই

নিষেধাজ্ঞার শর্তে ভারত বলেছে, নিষেধাজ্ঞার আগে অর্থাৎ ১৩ মের আগে ভারত থেকে গম আমদানিতে যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছে সেগুলো রপ্তানিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ওই সময়ের আগে কী পরিমাণ ঋণপত্র খুলেছে তার হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত রেকর্ড ১৪ লাখ টন গম রপ্তানি করেছিল; আর মে মাসে ১৫ লাখ টন রপ্তানির চুক্তিও করা আছে। এই হিসাবের মধ্যে বাংলাদেশের পরিমাণ কত তা জানা যায়নি।

গমের বড় আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর অনেক আগে থেকেই দাম, সহজলভ্যতা এবং সময় সাশ্রয় বিবেচনায় ভারত থেকেই আমদানি বাড়িয়েছিলাম। এখনো ১৩ মের আগের প্রচুর চুক্তি এবং ঋণপত্র খোলা আছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যে পরিমাণ গম পাইপলাইনে আছে সেগুলো দেশে পৌঁছলে সংকট হবে না। এর পরও সংকট মেটানোর জন্য বিকল্প দেশের কথা ভাবতে হবে। কিন্তু তখন দামটা বেশি পড়বে। ’ 

তবে ভারতের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন কোনো কোনো আমদানিকারক। তাদেরই একজন ফারুক আহমেদ। ৭০০ টনের একটি চালানে গম আনার জন্য ভারতীয় সরবরাহকারীর সঙ্গে দাম, শিপমেন্টসহ সব চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন তিনি। ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার চালানটি ২২ মে ভারত থেকে জাহাজীকরণ হওয়ার কথা ছিল। ঋণপত্র খোলার জন্য পুরো প্রক্রিয়া প্রায়ই সম্পন্ন করে ফেলেছিলাম, কিন্তু এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। ’

বিকল্প কী

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর মার্চ থেকে গমের সংকট তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার আমদানির জন্য ভারতের দিকে আরো ঝুঁকে পড়ে। ফলে সরকারি গম আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়নি। এর পরও বিকল্প হিসেবে বুলগেরিয়া থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। তার কী অবস্থা জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারিভাবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ছয় লাখ টন। কিন্তু সাত লাখ টনের মতো আমরা দরপত্র ডেকেছি। যেগুলো জুনের মধ্যেই চলে আসছে। ফলে আমদানি কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগামী অর্থবছরের জন্য আগাম পরিকল্পনা করছি। বিকল্প দেশ হিসেবে বুলগেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এমনকি রাশিয়াও প্রস্তাব দিয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় সবদিক থেকে সুবিধাজনক কোনটি আমরা যাচাই করছি। ’



সাতদিনের সেরা