kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

মৌসুমি ফল

রাজশাহীর আম নামছে, দামও ভালো

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজশাহীর আম নামছে, দামও ভালো

বাগানের গাছ থেকে গুটি আম পাড়ছেন চাষিরা। গতকাল রাজশাহীর পবা উপজেলার হারুপুর এলাকা থেকে তোলা। ছবি : সালাহ্ উদ্দিন

রসালো ও সুস্বাদু ফল আম। আর রাজশাহীর আমের কদর তো আলাদা। সারা বছর যারা রাজশাহীর আমের স্বাদ পেতে মুখিয়ে থাকে, তাদের জন্য সুখবর। চলতি বছর এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়েছে গতকাল শুক্রবার থেকে।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহীতে সাধারণত গুটি আম পাড়ার মধ্য দিয়ে মৌসুম শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন আচার কম্পানি বাগান থেকে আম সংগ্রহ করছিল। তবে আম পরিপক্ব হওয়ার ভিত্তিতে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী গতকাল গাছ থেকে আম নামানো শুরু হলো।

শুরুতেই আমের ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষিরা। গতকাল রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বর বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ গুটি আম বিক্রি হয়েছে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকায়, যা গত মৌসুমের শুরুর দিকে ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা।

সরেজমিনে চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় রাজশাহীতে এবার আমের উৎপাদন কিছুটা কম। এবার মুকুল কম আসায় এবং খরায় মুকুল ও আমের কুড়ি ঝরে পড়ায় উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে।

বানেশ্বর বাজারে আম বিক্রি করতে আসা দুর্গাপুরের চাষি বাদল হাওলাদার বললেন, ‘এবার আচার কম্পানিও শুরু থেকেই আম কিনতে মাঠে নেমেছে। কিন্তু গত বছর এটি ছিল না। এর ওপর গতবার প্রচুর আম ছিল গাছে গাছে। গত বছর আমের ভরা মৌসুমে রমজান মাস থাকায় আমের চাহিদা কম ছিল। তাই দাম অনেক কম ছিল। তবে এবার আমের চাহিদা বেশি, দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ’ তিনি বললেন, আজ (গতকাল) কোনো আমই মণপ্রতি ১২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। ’

পুঠিয়ার শিবপুর এলাকার চাষি মঞ্জুর হাসান। তিনি বলেন, ‘এবার গুটি আমই বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ দরে। আশা করছি, গতবারের ক্ষতি এবার পুষিয়ে নিতে পারব। ’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে তুলনামূলক বেশি জমিতে আমের চাষ হলেও উৎপাদন কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৭৬ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন। এবার কেজিতে দুই টাকা দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ টাকা। সে অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ৯০১ কোটি ৬৪ লাখ দুই হাজার ৮০ টাকার আমের ব্যবসা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকার আম ব্যবসায়ী আলী আহসান বলেন, ‘এবার শুরু থেকেই আমের চাহিদা রয়েছে। এ কারণে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ’

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে ৫ মে অনুষ্ঠিত সভায় রাজশাহীতে আম নামানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার থেকে গুটি জাতের আম নামানো শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, রানী পছন্দ ২৫ মে, হিমসাগর ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন, আশ্বিনা ও বারি ফোর ১০ জুলাই, গৌড়মতি ১৫ জুলাই এবং ইলামতি জাতের আম ২০ আগস্ট নামানোর তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বেঁধে দেওয়া তারিখের আগে কোনো আম চাষি আম নামালে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শরিফুল হক।

 



সাতদিনের সেরা