kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

যশোরে নৌপথের বাধা ২৯ সেতু

ফিরোজ গাজী, যশোর   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যশোরে নৌপথের বাধা ২৯ সেতু

এভাবেই যশোরের ভৈরব নদ ভরাট করে রাস্তা বানিয়ে এর ওপর ছোট সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই সেতুর নিচ দিয়ে নৌচলাচল সম্ভব নয়। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ভৈরব নদ খননের সুফল পাওয়ার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টি সেতু। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকা জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ নেওয়া হয়। নদের যশোর অংশের ৯৬ কিলোমিটার খননকাজে ৩১টি প্যাকেজে বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র ডাকা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ খনন করার কথা। নানা জটিলতায় খননকাজ তিন দফা থমকে যায়। ২০২১ সালে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২-এর জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৯৬ কিলোমিটারজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার নির্মাণ করা ৫১টি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ২৩টি, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের চারটি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের ১৯টি, রেলওয়ের একটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি এবং কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তিনটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি সেতু সংকীর্ণ, যা নৌচলাচলের জন্য উপযোগী নয়।

সম্প্রতি রাজারহাট, দড়াটানা, নীলগঞ্জ, কাঠেরপুল, ঢাকা রোড, খয়েরতলা সেতুসহ কয়েকটি স্থানে গিয়ে দেখা যায়, এরই মধ্যে নদের শহর অংশের খনন অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। বাকি অংশের খননকাজও চলছে। তবে এসব সেতুর বেশির ভাগ সংকীর্ণ এবং নিচুভাবে তৈরি। নদ খনন হলেও এর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারবে না।

এ বিষয়ে ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ‘আন্দোলনের শুরু থেকে আমরা অপরিকল্পিত সেতুর অপসারণ দাবি করছি। নদ খনন সম্পন্ন হওয়ার পরও এসব সংকীর্ণ সেতুর কারণে নৌযান চলাচল করতে পারবে না। নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হবে। স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ হতে না পারলে আস্তে আস্তে পলি জমে নদ আবারও ভরাট হবে। ’ এ ছাড়া নদ খননে ফোরশোর আইন মানা হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তওহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নদ খননের শতভাগ সুফল পেতে ২৯টি সেতু অপসারণ ও সম্প্রসারণ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ’

যশোরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম আনিছুজ্জামান বলেন, ‘রাজারহাট সেতু ছিল ১২ মিটার। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি ৭২ মিটার সেতুর অনুমোদন পাই। আমরা পাউবোর সহযোগিতা নিয়ে তাদের হিসাব মতোই পর্যায়ক্রমে সব সেতু বাস্তবায়ন করব। ’

 



সাতদিনের সেরা