kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ময়মনসিংহের ভালুকা

হাসপাতালের দেয়াল টপকে যাতায়াত ৫০ পরিবারের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হাসপাতালের দেয়াল টপকে যাতায়াত ৫০ পরিবারের

বাইরে যাতায়াত, হাট-বাজার ও খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া—সব কিছু তাদের করতে হয় উপজেলা হাসপাতালের দেয়াল টপকে। চলাচলের বা প্রধান সড়কে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় এলাকার অন্তত ৫০টি পরিবারের সদস্যদের বছরের পর বছর ধরে ‘বন্দি’ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। ঘটনাটি ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাণ্ডাব সিলমাপাড়ার (সিলমার আগার)।

ভাণ্ডাব সিলমাপাড়ার তিন দিকে ঘরবাড়ি এবং অন্য পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়াল।

বিজ্ঞাপন

মহল্লায় একটি মসজিদ থাকলেও সেখানে জানাজা পড়ানোর জায়গা নেই। তাই এলাকায় কারো মৃত্যু হলে বাইরে জানাজার জন্য লাশও নিতে হয় হাসপাতালটির দেয়াল টপকে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সিলমাপাড়ার বাসিন্দা সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী রাবিয়া খাতুন গত বুধবার বিকেলে মারা যান। সন্ধ্যায় তাঁর লাশ জানাজার জন্য নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে।

এ সময় তাঁর ভাই আছমত আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপস্থিত মুসল্লিদের জানান, রাস্তা না থাকায় তাঁর বোনের লাশ এখানে আনতে হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরের ওপর দিয়ে। তাঁর দাবি, ওই হাসপাতালের জন্য তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রায় দেড় একর জমি দিয়েছেন। অথচ এখন তাঁদের চলাচল করার মতো রাস্তা নেই। তাঁর মা-বাবা ও চাচাদের লাশও জানাজার জন্য এভাবেই হাসপাতালের দেয়াল টপকে আনতে হয়েছে।

চলাচলের রাস্তা না থাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে চলাচলের একটু রাস্তা করে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।

জানাজায় উপস্থিত সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাস্তার অভাবে সিলমা আবাসিক এলাকার ৫০টির মতো পরিবারের কয়েক শ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের দেয়াল টপকে অবর্ণনীয় কষ্ট করে আসা-যাওয়া করছে। তারা রাস্তার জন্য আবেদন করেও কোনো ফল পায়নি।

ভাণ্ডাব সিলমাপাড়া মহল্লার মসজিদের ইমাম শাহজাহান মিয়া জানান, তিনি ২৬ বছর ধরে এখানে ইমামতি করছেন। রাস্তা না থাকায় এ মহল্লায় কয়েক শ মানুষের চলাচলের দুরবস্থা দেখে তিনি খুবই মর্মাহত। মানুষ মারা গেলে প্রাচীর টপকিয়ে লাশ আনা-নেওয়া করতে হয়।

পৌরসভার মেয়র ডা. এ কে এম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই মহল্লার মানুষের চলাচলের রাস্তা করার জন্য অনেকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জায়গা না পাওয়ায় রাস্তা করা সম্ভব হয়নি। ’

 



সাতদিনের সেরা