kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

রূপাকে বগুড়া আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রূপাকে বগুড়া আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি

নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরিন রূপাকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রূপার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।  

রূপা বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) ও ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

বিজ্ঞাপন

তাঁকে গত শুক্রবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ‘অডিটর’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ডিবি পুলিশের দাবি, প্রশ্ন ফাঁস চক্রে মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের (সিজিএ) বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানও রয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ এই চক্রের মোট ১০ সদস্য রয়েছেন।

ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিরক্ষা মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের অধীন ডিফেন্স ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ৫৫০টি অডিটর পদে নিয়োগের জন্য শুক্রবার ৭০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। ডিবির গুলশান বিভাগ তথ্য পায়, চক্রের সদস্যরাই পরীক্ষার্থী সেজে কেন্দ্রে ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে যান। প্রশ্নপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাঁরা ডিভাইসের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থেকে তাঁরা প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের পাস করাতেন। এ জন্য প্রতি চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১৪ লাখ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিতেন। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া হতো দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

রূপাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে পরীক্ষার হলে ডিভাইসসহ আটক করা হয়। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটি এয়ার ফোন। কানে লাগায়। কাছে থাকে। এ সময় তাঁর কাছে অন্য আরেকটি ডিভাইস পাওয়া যায়। রূপা গোয়েন্দাদের জানান, ওই সব ডিভাইস অনেক টাকায় বিদেশ থেকে এনেছেন তিনি।

ইডেনে রূপার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : মাহবুবা নাসরিন রূপা বগুড়া জেলা ও দুপচাঁচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ভুঁইপুর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাঁর বাবা আতাউর রহমান ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি অফিসের নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করতেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকায় বাবার কাছে থেকে মাধ্যমিক ও কলেজে পড়াশোনা করেন।

 



সাতদিনের সেরা