kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

পুলিশের তদন্তে আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ‘হত্যা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




পুলিশের তদন্তে আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ‘হত্যা’

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সুমন দেবনাথের মৃত্যু নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। কারখানায় চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে তাঁর মৃত্যুকে পুলিশ সুরতহাল বা প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বললেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ (শতামেক) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘উচ্চতা (ভবন) থেকে পড়ে বা আত্মঘাতী কোনো কারণে সুমন দেবনাথের মৃত্যু হয়নি। বরং জীবিত অবস্থায় বুকে আঘাতের ফলে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিহত সুমন দেবনাথ (২১) কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর এলাকার হরিলাল দেবনাথের ছেলে। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে সুমন গত ২৩ নভেম্বর সকালে কালীগঞ্জের খলাপাড়ায় এমিগো বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) কারখানায় যান। বিকেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারকে জানায়, ইন্টারভিউ ভালো করতে না পেরে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন সুমন। ওই দিন সন্ধ্যায় তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। সুরতহালে পুলিশ তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে।

বাবা হরিলাল দেবনাথ অভিযোগ করেন, সুমন ইন্টারভিউ দিতে যান সকাল ৭টার দিকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কারখানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, ছেলে কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে আছেন। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখতে পান, বিছানায় ছেলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তখন তিনি ছেলের শরীরে একাধিক আঘাত দেখতে পান। তাঁকে জানানো হয়, ইন্টারভিউ ভালো না হওয়ায় সুমন পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সন্দেহ হলে তিনি হত্যা মামলা করতে থানায় যান। কিন্তু ‘সুমন আত্মহত্যা করেছেন’ জানিয়ে পুলিশ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাঁকে ফিরিয়ে দেয়। পরে গত ১৫ ডিসেম্বর তিনি গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন। আদালত  অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার অভিযুক্তরা হলেন এবিএলের অ্যাডমিন অফিসার মাহমুদুল হাসান (৩৪), মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হাবিবুর রহমান (২৫), গাড়িচালক ইসরাফিল খান (২০) ও অফিস সহকারী জান্নাত আরা (৩০) এবং স্থানীয় বীরেন্দ্র দেবনাথ (৫০)।

হরিলাল ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, বীরেন্দ্র দেবনাথ সুমনকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিলেন। দরিদ্রতার কারণে এত টাকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। হরিলাল ভবিষ্যতের কথা ভেবে ধার করে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় সুমনের হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তাঁর ছেলে আত্মহত্যা করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘ঘুষের পুরো টাকা না দেওয়ায় আসামিরা সুমনকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। ’

এদিকে গত ২৪ নভেম্বর শতামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে সুমন দেবনাথের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সম্প্রতি আদালতে পাঠানো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জীবিত অবস্থায় সুমন বুকে আঘাত পেয়েছিলেন। আঘাতের স্থানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাকে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।

এবিএল কম্পানির অ্যাডমিন অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনার সময় তিনি কারখানায় উপস্থিত ছিলেন না। দুর্ঘটনার  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিচে পড়ে থাকতেন দেখেন।   

সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম ইমন বলেন, লাশের অবস্থা এবং সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হয়ছিল। এর পরও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

 

 



সাতদিনের সেরা