kalerkantho

মঙ্গলবার ।  ২৪ মে ২০২২ । ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২২ শাওয়াল ১৪৪৩  

নোয়াখালী পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জয়ী

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নোয়াখালী পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী জয়ী

দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গতকাল রবিবার নোয়াখালী পৌরসভার ভোট উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ ও বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীরা তাঁদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জানান, সবার অংশগ্রহণে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাত ৮টায় নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন নোয়াখালী জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রবিউল আলম।

বিজ্ঞাপন

এতে নৌকার প্রার্থী শহিদ উল্যাহ খান সোহেলকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৯টি ওয়ার্ডের ৩৪টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হয়। সকাল থেকেই জেলা শহরের প্রতিটি কেন্দ্রে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন দীর্ঘ হতে থাকে। তবে দুপুরের পর ভোটারদের উপস্থিতি কমে আসে। ভোট দিতে আসা সব বয়সের ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ করা গেছে।

সকাল ৮টা ১০ মিনিটে নোয়াখালী পৌরসভার ৪ নন্বর ওয়ার্ডের মাইজদী পাবলিক কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শহিদ উল্যাহ খান সোহেল ভোট দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিজয়সূচক চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, ‘বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে মানুষের জন্য যদি কিছু করে থাকি তার প্রতিদান ভোটাররা অবশ্যই দেবেন। আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। ’

সকাল সাড়ে ৮টায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজদী ল ইয়ার্স কলোনির প্রভাতি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভোট দেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী লুত্ফুর হায়দার লেনিন। তিনি অভিযোগ করেন, দুপুরে কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের নৌকার সমর্থকরা বের করে দেয়। তিনি বলেন, কোনো সহিংসতা না ঘটলেও ভোটারদের নৌকার লোকজন ভয়ভীতি দেখানোয় অনেকে ভোটকেন্দ্রে আসেননি। অনেকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি। তিনি বলেন, সকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মাইজদী পাবলিক কলেজ, অরুণ চন্দ্র স্কুল, গোপাই প্রাইমারি স্কুল, চাইল্ড কেয়ার স্কুল, দত্তেরহাট দারুসসুন্নাহ মাদরাসা কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। এসব কেন্দ্রে তারা জোর করে নৌকায় ভোট দিয়ে দেয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় পৌর এলাকার সোনাপুর কারামতিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম কিরণ। বিকেলে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ, সকালে সোনাপুর ব্রাদার আন্দ্রে কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টরা ফরম নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসী তাঁর অন্যতম কর্মী শওকত হোসেন দিদারকে মারধর করে ফরম ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে তিনি সেই কেন্দ্র গিয়ে নতুন করে ফরম পূরণ করে তাঁর এজেন্টদের সেখানে বসান। তার পরও তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।

জানতে চাইলে সোনাপুর ব্রাদার আন্দ্রে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, তাঁর কেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে সকালে কম্পিউটার প্রতীকের প্রার্থী নতুন করে ফরম দিয়ে তাঁর এজেন্টদের সেখানে বসিয়েছেন।

পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে সুন্দর নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পেরেছি। ’

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আমরা সফল হয়েছি। এ জন্য ভোটারদের সহযোগিতা ছিল। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পেরেছি। ’

আরো চার পৌরসভায় ভোট

নাটোর : নাটোর সদর ও বাগাতিপাড়া—দুই পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমদাদুল হক আল মামুনের দুজন সমর্থক আহত হওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, আগের রাতে তাঁর কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং নির্বাচনকালে পাঁচটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এখানে বেসরকারি ফলাফলে নৌকার প্রার্থী উমা চৌধুরী জলি জয়ী হয়েছেন।

এ ছাড়া নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফুল ইসলাম লেলিন জয়ী হন।

বাঁশখালী : বাঁশখালী পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৪,৩৪৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট এস এম তোফাইল বিন হোছাইন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কামরুল ইসলাম হোছাইনী (মোবাইল) পেয়েছেন ১,৩৬৫ ভোট। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর হলেন রোজি আক্তার, রোজিনা সুলতানা রুজি ও ছাদেকা নুর খানম। সাধারণ কাউন্সিলর হলেন—আনসুর আলী, কাঞ্চন বড়ুয়া, জামশেদ আলম, মো. আরিফ মাঈন উদ্দিন, মো. ইসহাক, আক্তার হোসেন, আব্দুল গফুর, প্রণব দাশ ও বদিউল আলম। ভোট চলাকালে দুপুর ১২টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম হোসাইনি বলেন, ‘১১টি ভোটকেন্দ্রে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে ভোট কারচুপি হচ্ছে, তাই আমি ভোট বর্জন করলাম। ’

ঝিকরগাছা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঝিকরগাছা পৌরসভার মানুষ ইভিএমে ভোট দিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামালকে পুনরায় পৌর পিতা হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে। তবে একটি কেন্দ্রে মামলা থাকায় মেয়র প্রার্থীসহ ওই কেন্দ্রের কমিশনার প্রার্থীদের ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

 

 

 



সাতদিনের সেরা