kalerkantho

বুধবার ।  ২৫ মে ২০২২ । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩  

মাদকের হটস্পট কাশিমপুর

সাঈদা হত্যায় আর মুখ খোলেননি আনারুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




মাদকের হটস্পট কাশিমপুর

অধ্যাপক সাঈদা

অধ্যাপক সাঈদা গাফ্ফার হত্যায় অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলামকে গত শনিবার বিকেলে আদালতে পাঠানোর আগে কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুবে খোদা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপংকর রায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আনারুল মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

পুলিশের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় অনুসন্ধান করতে গিয়ে পাওয়া গেছে মাদকের চাঞ্চল্যকার তথ্য। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কাশিমপুর মাদকের ‘হটস্পট’।

বিজ্ঞাপন

থানা এলাকার ছয়টি ওয়ার্ডে কম করে হলেও শতাধিক মাদক কারবারি রমরমা কারবার করছেন। মাদককে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়ছে খুন ও অপহরণের মতো অপরাধ। গত দেড় মাসে কাশিমপুর থানায় মামলা হয়েছে ২৫টি। এর মধ্যে ১২টিই মাদকের। অথচ থানা পুলিশের তালিকায় একজন মাদক কারবারির নামও নেই।

এদিকে অধ্যাপক সাঈদা হত্যায় রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনেও নিজের ছাড়া অন্য কারো জড়িত থাকার বিষয়ে গতকাল রবিবার পর্যন্ত মুখ খোলেননি আনারুল ইসলাম (২৫)। তিনি তিন দিনের রিমান্ডে আছেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাঈদা গাফ্ফার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিমপুর থানার পানিশাইলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পের ভেতরে। গতকাল দুপুরে সেখানে গেলে স্থানীয় লোকজন জানায়, আবাসন প্রকল্পটি মাদকসেবীদের একটি নিরাপদ আস্তানা। ভেতরে ঝোপ-জঙ্গল থাকায় ও মানুষজন না থাকায় এখানে নিয়মিত মাদকের আসর বসে।

প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রহরী জয়নাল আবেদীন বলেন, এলাকাটি বিশাল। তিন শিফটে তিনজন করে ৯ জন প্রকল্পটি পাহারা দেন। এক শিফটে তিনজনের মধ্যে মূল গেটে একজন এবং বাকি দুজন ভেতরে থাকেন। পুরো এলাকা ঘুরতে একজনের দেড়-দুই ঘণ্টা লাগে। বেশির ভাগ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া। বেড়া  টপকে অনেকেই ভেতরে ঢুকে নেশা করে। প্রহরীদের দেখলে পালিয়েও যায়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছে, কাশিমপুরের শ্রমিক অধ্যুষিত বেশির ভাগ এলাকায় মাদকের কারবার চলে। কমপক্ষে ১০০ কারবারির হাতে এলাকার মাদকের নিয়ন্ত্রণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন এলাকার কাছেই চক্রবর্তী এলাকা। এখানে ভাড়া থেকে মাদক কারবার করেন অন্তত ৯ বড় মাদক ডিলার। কাশিমপুর বাজার ও এর আশপাশে বড় মাদক কারবারির তালিকা বেশ দীর্ঘ।

স্থানীয় কাউন্সিলর মীর মো. আসাদুজ্জামান তুলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাশিমপুর এলাকায় মাদক কারবারির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তারা এলাকা ধ্বংস করে দিচ্ছে। যুবক ও শিশুদের কাছে মাদক বিক্রি করছে। অনেক মাদক কারবারিকে ধরে পুলিশে দিয়েছি। তারা জামিনে এসে আবার মাদক কারবারে জড়িত হচ্ছে। আমরা অতিষ্ঠ। সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। ’

কাশিমপুর থানার ওসি জানান, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। গত ডিসেম্বর মাসে সাতটি মাদকের, দুটি দুর্ঘটনারসহ মাত্র ১৪টি মামলা হয়েছে।   জানুয়ারি মাসে গতকাল পর্যন্ত ১৬ দিনে মামলা হয়েছে ১১টি। এর মধ্যে পাঁচটি মাদকের। অধ্যাপক সাঈদা হত্যা ছাড়া সম্প্রতি বড় কোনো আলোচিত ঘটনা ঘটেনি।

 



সাতদিনের সেরা