kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর টেলিগ্রাম ফাঁস

বিদেশি আদালতের সমন গ্রহণ না করার নির্দেশনা

মেহেদী হাসান   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি আদালতের সমন গ্রহণ না করার নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) ও আর্জেন্টিনার আদালতের সমন বা পরোয়ানাসংক্রান্ত সম্ভাব্য কোনো চিঠি গ্রহণ না করতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রোহিঙ্গাদের সংগঠন বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের (ব্রুক) সভাপতি তুন খিন গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা মিয়ানমার বাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি টেলিগ্রাম বার্তা পেয়েছেন। তাতে এমন নির্দেশনার কথা বলা আছে। তাঁরা ওই বার্তার সত্যতার বিষয়েও নিশ্চিত হয়েছেন।

বার্তায় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সদস্যদের রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারসংক্রান্ত কোনো বিদেশি চিঠি গ্রহণ না করতে এবং সেগুলোর কোনো জবাব না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ টেলিগ্রাম কিভাবে পেলেন জানতে চাইলে তুন খিন বলেন, মিয়ানমারের জনগণ সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে। মিয়ানমারের আজকের এই পরিণতির জন্য সামরিক বাহিনীর অনেকেই অখুশি। তাদের একটি অংশ ওই টেলিগ্রাম ফাঁস করেছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যেও যে কিছু মতপার্থক্য, বিভক্তি দেখা যাচ্ছে এই টেলিগ্রাম ফাঁস হওয়া তারই প্রমাণ।

তুন খিন দাবি করেন, টেলিগ্রাম ফাঁস হওয়ার বিষয়টি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীও অবগত। এরই মধ্যে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

যা আছে টেলিগ্রামে : গত ৬ জুন মিয়ানমার সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘গোপনীয়’ টেলিগ্রামটি পাঠান ক্যাপ্টেন অং কো জাও। টেলিগ্রামে তাঁর পদবি বলা আছে ‘কমান্ডার (থার্ড গ্রেড) (অপারেশন)’।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার বরাত দিয়ে ওই টেলিগ্রামে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে তথাকথিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আইসিসিতে মামলা হয়েছে। ব্রুক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলে মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও সরকারি নেতাদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।

টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। তবে বাংলাদেশ আইসিসি ও রোম সংবিধির সদস্য। তাই প্রাক-বিচারিক আদালত-৩ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সদস্য দেশে সংঘটিত ঘটনার বিচার করার এখতিয়ার তাঁদের আছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে।

টেলিগ্রাম বার্তায় আরো বলা হয়েছে, আইসিসির সদস্য না হওয়ায় মিয়ানমারের ওপর আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার নেই এবং আইসিসির নির্দেশনা মানতেও তারা বাধ্য নয়—মিয়ানমার এখনো এই অবস্থান ধরে রেখেছে।

টেলিগ্রামের পরের অংশে বলা হয়েছে, এমন প্রেক্ষাপটে ডিএইচএল বা অন্য কোনো কুরিয়ার কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে আসা আইসিসি বা আর্জেন্টিনার আদালতের কোনো চিঠি, সমন বা পরোয়ানা কেউ গ্রহণ করবেন না। আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডগুলোর অধীন ব্যাটালিয়নগুলোর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা কঠোরভাবে এর তদারকিও নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া কেউ ভাইবার, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের বার্তা আদান-প্রদান করবেন না। কেউ এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সামরিক আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিচার এড়ানোর চেষ্টা : ব্রুক সভাপতি তুন খিন গত মাসে আর্জেন্টিনার আদালতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন জেনারেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মিয়ানমার বাহিনীর অভ্যন্তরীণ টেলিগ্রাম বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যাসংক্রান্ত অপরাধগুলো আড়াল করতে মিয়ানমার বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহি করানোর উদ্যোগ আরো জোরদার করা।

বর্তমানে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আইসিসি, আর্জেন্টিনার ফেডারেল আদালত ছাড়াও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।

 

 



সাতদিনের সেরা