kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘ডাকাতি ও হত্যা’ মামলায় আসামি ২৫০

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ডাকাতি ও হত্যা’ মামলায় আসামি ২৫০

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাত আখ্যা দিয়ে লেগুনা মালিক এবং দুই চালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ‘ডাকাতি ও হত্যা’ মামলা করা হয়েছে।

ডাকাতির অভিযোগে করা মামলায় নিহত ওই তিন তরুণ ও অজ্ঞাতপরিচয় ১৪-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার ফকির ফ্যাশন নামের পোশাক কারখানার বাসচালক মো. হানিফা বাদী হয়ে ডাকাতির অভিযোগে মামলাটি করেন। আর আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহমান ঢালী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে গতকাল সকালে সোনারগাঁও উপজেলায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ওই তরুণদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তাঁদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

ডাকাতির মামলার বাদী বাসচালক মো. হানিফা অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় ফকির ফ্যাশনের শ্রমিকদের আনতে যায় প্রতিষ্ঠানের বাসটি। আড়াইহাজার উপজেলার সিংহদী ও আপরদী এলাকা থেকে কয়েকজন শ্রমিককে নিয়ে ইলমদী পাকা রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতপরিচয় ১৪ থেকে ১৫ জন ডাকাত দুটি লেগুনায় শ্রমিকবাহী ওই বাসের সামনে এসে গতিরোধ করে। দুটি লেগুনা থেকে পাঁচ থেকে সাতজন ডাকাত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাসে উঠে চালকসহ ৯ শ্রমিককে হত্যার হুমকি দেন। এরপর বাসের শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নিয়ে বাস থেকে নেমে যান তাঁরা। একই সময় ইলমদী মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকরা বাসের দিকে আসছিলেন। তখন চালকসহ বাসের শ্রমিকরা ডাকাত বলে চিৎকার করলে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিন ডাকাতকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাঁরা বাসের শ্রমিকদের নিয়ে ফকির ফ্যাশনে চলে যান। পরে তাঁরা জানতে পারেন স্থানীয় জনতা আটক তিনজনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে।’

ওই বাসচালক আরো উল্লেখ করেন, নিহত তিনজনসহ ১১ থেকে ১২ জনের পরনে প্যান্ট, গেঞ্জি, শার্ট ও জ্যাকেট ছিল। ডাকাত সদস্যরা স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় কথাবার্তা বলছিলেন। ডাকাত সদস্যদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে করা হত্যা মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আর বাসচালকের করা ডাকাতির মামলায় ওই তিনজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উপজেলার ইলমদী বেনজীরবাগ এলাকা থেকে তিন তরুণের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে তাঁদের শনাক্ত করেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল বৌবাজার গ্রামের সিরাজুলের ছেলে মফিজুল (২৬), একই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম জেসনু (২৭) এবং আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের মোসলেমের ছেলে নবী হোসেন (৩০)।

এলাকাবাসী জানায়, ডাকাত সন্দেহে ওই তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁদের স্বজনরা জানান, তিনজনের কেউ ডাকাত নন। তাঁরা লেগুনা মালিক ও চালক। তাঁদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই তিনজনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় চুরির মামলা রয়েছে।

 

 



সাতদিনের সেরা