kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

উত্তরাধিকারী

সাধারণ রাজকন্যার গল্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাধারণ রাজকন্যার গল্প

আমালিয়া এখন (বাঁয়ে), ডানে ৯ বছর বয়সে মাথায় টায়রা পরা অবস্থায়। ছবি : অনলাইন

যে দেশের জাতীয় নীতিই হচ্ছে ‘সাধারণ থাকুন’, সে দেশের জন্য ডাচ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস আমালিয়া একেবারেই লাগসই। আর ঠিকুজিতে অসাধারণ হয়েও সাধারণ মেয়ে হয়েই খুশি এই আমালিয়া গতকাল মঙ্গলবার পা দিলেন আঠারোতে। কলেজে ভর্তির আগে বিরতি নিতে ‘গ্যাপ ইয়ার’ কাটাচ্ছেন। অকপটে কথা বলেছেন মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

জানিয়েছেন, রাজপরিবারের সম্পূর্ণ কর্মরত সদস্য না হওয়া পর্যন্ত তাঁর  প্রাপ্য আয় মোটেও দাবি করবেন না।

গান, টায়রা আর গীতিনাট্য পছন্দ করেন আমালিয়া। তাঁর পছন্দের আছে আরো অনেক কিছুই। এই বয়সে যা হয়। তবে নেদারল্যান্ডসের হবু রানি সম্পর্কে আরো জানতে অনেকেই উত্সুক। তাঁর অষ্টাদশী হওয়া নতুন কিছুর বার্তা বয়ে আনছে কি না সে প্রশ্নও এখন অনেক ডাচের মুখে মুখে।

দ্য হেগের বাসভবনের কাছাকাছি একটি সরকারি স্কুলে পড়েছেন আমালিয়া। অনেক ডাচ শিশুর মতোই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতেন। আমালিয়ার বন্ধুরা বলে, তিনি ও তাঁর পরিবার দেশের অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু না। আর দশজনের মতোই মেসেঞ্জার গ্রুপে যোগাযোগ আর গল্প-আড্ডায় মাতে তারা।

এক প্রটেস্ট্যান্ট হাই স্কুল থেকে পাস করেছেন আমালিয়া। স্কুল শেষের দিন মহানন্দে অন্যদের মতোই বাড়ির ছাদে স্কুলব্যাগ বেঁধে ডাচ পতাকা তুলেছিলেন। অন্য সহপাঠী-বন্ধুদের সঙ্গে একমাত্র পার্থক্য ছিল, তাঁর বাড়িটি একটি প্রাসাদ! দ্য হেগ শহরের বিশেষ রকম সবুজঘেরা অংশে যার অবস্থান।

১৮ বছরে পা দেওয়ায় আমালিয়া এখন রাজপরিবারের একজন হিসেবে নিজের আয় আর খরচাপাতি মেটাতে বছরে ১৬ লাখ ইউরো পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু আপাতত এই অর্থ নিতে রাজি নন তিনি। কারণ অর্থটা উপার্জন করার জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই করছেন না বলে এটা তাঁর জন্য নাকি ‘অস্বস্তিকর’ হবে।

আমালিয়ার পুরো নাম বিয়াট্রিক্স কারমেন ভিক্টোরিয়া। তাঁর দুটি ছোট বোন আছে—আলেক্সিয়া আর আরিয়ান। সারা বছরের জন্য গোপনীয়তার ‘বিনিময়ে’ বছরে দুইবার ফটোগ্রাফারদের সামনে পোজ দেয় তাঁর পরিবার। আমালিয়ার বাবা নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম আলেকজান্ডার একজন পাইলট, যিনি কেএলএম এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট নিয়ে ওড়েন। আর মা হচ্ছেন রানি ম্যাক্সিমা। তিনি আর্জেন্টিনার মেয়ে। বলা হয়, কিছুটা নীরস আর সাদামাটা হিসেবেই পরিচিত ডাচ রাজপরিবারে নাকি তিনি বেশ একটা লাতিন আমেরিকান ছন্দ নিয়ে এসেছেন।

রাজা উইলেম আলেকজান্ডার কয়েক বছর আগে একবার বলেছিলেন, সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য হচ্ছে খোলামেলা থাকা আর সততা। তাঁর বড় মেয়ের মতও তা-ই। ডাচ সংবিধানের বিধান, রাজকুমারীর বিয়ের পাত্রের বিষয়ে পার্লামেন্টের সম্মতি প্রয়োজন। ১৮ বছরে পা দেওয়া উপলক্ষে প্রকাশিত এক জীবনীতে রাজকুমারী আমালিয়া এ ব্যাপারে অকপটেই কথা বলেছেন। আমালিয়ার কথায়, ‘যদি সেই মানুষটি আমার পাশে থাকেন, আমি যদি তাঁকে ভালোবাসি আর তাঁর সঙ্গেই জীবন কাটাতে চাই এবং পার্লামেন্ট অনুমোদন না করে, তাহলে দেখা যাবে। ’ আমালিয়ার ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। তাঁর প্রয়াত চাচা প্রিন্স ফ্রিসো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ম্যাবেল উইস স্মিটকে বিয়ে করার জন্য রাজকীয় মর্যাদা ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আমালিয়ার জীবনী থেকে জানা যায়, ডাচদের চেয়ে জার্মান পুরুষদের বেশি সাহসী মনে করেন এই তরুণী। বইটি পড়লে আরো জানা যাবে, স্কুলের শেষ দিকে এক সহপাঠী ছেলে তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখানোয় হাঁপ  ছেড়ে বেঁচেছিলেন। মনে হয়েছিল, যাক, কোনো ছেলের চোখে ভালো লাগে তাঁকে! পরে জানা গেল, ছেলেটি নেহাত বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে কাজটি করেছে!

মানসিক স্বাস্থ্যকে শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন আমালিয়া। বলেন, ‘যদি আমার প্রয়োজন হয়, অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করব। মাঝেমধ্যে একজন পেশাদার লোকের সঙ্গে কথা বলা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার হওয়া উচিত। ’

সূত্র : বিবিসি।

 



সাতদিনের সেরা