kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রোমানিয়া ও সার্বিয়া

মাদারীপুরের ১০ যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি

মাদারীপুর সংবাদদাতা   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাদারীপুরের ১০ যুবককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি

রোমানিয়ায় মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি পাঁচ যুবক। ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুরের ১০ যুবককে রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় জিম্মি রেখে ১০ লাখ টাকা করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে দালালচক্র। এ ঘটনায় জিম্মি ব্যক্তিদের স্বজনরা মাদারীপুর থানায় মামলা করলে আল আমিন (২৯) নামের এক দালালকে গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আল আমিন সদর উপজেলার ঝাউদী ইউনিয়নের হাজিরহাওলা গ্রামের জাফর বেপারীর ছেলে। রোমানিয়া ও সার্বিয়ার অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি ১০ যুবকের সবাই সদর ও ডাসার উপজেলার বাসিন্দা। ১০ যুবকের স্বজনরা দিন পার করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ তানভীর হোসেন, মিলন মুন্সী, মোফাজ্জেল হাওলাদার, রাশেদ হাওলাদার, বায়েজিদ মাতুব্বর, মো. সোহাগ, আবদুল হক, সজীব হাওলাদার, সাকিল ও ইমন—এই ১০ যুবক অবৈধ পথে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান। মাদারীপুরের ঝাউদী ইউনিয়নের হাজিরহাওলা গ্রামের মানবপাচারকারী আল আমিন গ্রিসে বসবাস করা তাঁর মামা শামীম আকনের মাধ্যমে বেশি বেতনে গ্রিস থেকে ইটালিতে লোক পাঠানোর লোভ দেখান।

ওই ১০ যুবকের স্বজনদের আল আমিন লোভ দেখান, তাঁর মামা শামীম আকনের মাধ্যমে গ্রিস থেকে রোমানিয়া ও সার্বিয়া হয়ে নিরাপদে তাঁদের ইতালি পৌঁছে দেবেন। এ জন্য জনপ্রতি আট লাখ টাকা করে দিতে হবে। টাকা পরিশোধের এক মাসের মধ্যে ইতালি পৌঁছে যাবেন তাঁরা। দালাল আল আমিনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাঁকে আট লাখ টাকা করে পরিশোধও করা হয়। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর রোমানিয়ার কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে জিম্মি সৈয়দ তানভীর তাঁর ভাই সৈয়দ শাহিনকে ইমোতে ভিডিও কল করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁরা পাঁচজন রোমানিয়ার কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে দালালচক্রের হাতে জিমি। আরো পাঁচজনকে সার্বিয়ার অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি করে রেখেছে দালালচক্র। জিম্মি অবস্থা থেকে তাঁদের মুক্তি পেতে জনপ্রতি আরো ১০ লাখ টাকা করে দিতে হবে। তা না হলে তাঁদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে। এরপর জিম্মি ব্যক্তিদের স্বজনরা দালাল আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও দ্রুত আরো ১০ লাখ টাকা করে এক কোটি টাকা দিতে চাপ দেন। উপায় না দেখে ওই ১০ যুবকের স্বজনদের পক্ষে সৈয়দ শাহিন মাদারীপুর থানায় আল আমিন ও গ্রিসে থাকা তাঁর মামা শামীম আকনকে আসামি করে মামলা করলে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

জিম্মি বায়েজিদ মাতুব্বরের মা মাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। সবাই একটু ভালো থাকার আশায় আট লাখ টাকা ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। কিন্তু এখন দালালরা মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার ছেলেসহ ১০ জনকে রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় জিম্মি করে রেখেছে। আরো ১০ লাখ টাকা না দিলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে। আমি এখন এত টাকা কই পাব? কে দেবে আমাকে টাকা?’

আরেক জিম্মি মিলন মুন্সীর ভাই লিমন মুন্সী বলেন, ‘আমরা দালালকে চুক্তিমতো আট লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আবার মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমার ভাইকে জিম্মি করে মুক্তিপণ হিসেবে আরো ১০ লাখ টাকা চাইছে। টাকা পাঠাতে না পারলে আমার ভাইকে ওরা মেরে ফেলবে। এত টাকা এখন আমরা কোথায় পাব?’

একই ধরনের কথা বললেন মস্তফাপুর ইউনিয়নের তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদারের ভাই মিমজাল হোসেন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘ভাই, আমরা শেষ হইয়া গেছি। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধারদেনা করে ভাইকে গ্রিসে পাঠিয়েছি। দালাল আল আমিনের প্ররোচনায় সেখান থেকে ইতালিতে পাঠাতে দিয়েছি আরো আট লাখ টাকা। অথচ আমার ভাইটা এখন রোমানিয়ায় মাফিয়াদের হাতে জিম্মি। কোথায় পাব আরো ১০ লাখ টাকা? কী করব এখন বুঝতে পারছি না।’

মামলার বাদী সৈয়দ শাহিন বলেন, ‘আমরা দালাল আল আমিনকে আট লাখ টাকা করে দিয়েছি আমাদের ভাইদের গ্রিস থেকে ইতালি নিয়ে যেতে। অথচ এখন তারা আমাদের ভাইদের রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় জিম্মি করে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। এত টাকা আমরা কোথায় পাব! নিরুপায় হয়ে মামলা করেছি। আমাদের ভাইদের বাঁচাতে পারব কি না জানি না।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় মাফিয়াদের হাতে ১০ জন বন্দির ঘটনায় করা মামলায় স্থানীয় দালাল আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা