kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মুন্সীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড

মৃত্যুশয্যায়ও শিশুসন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় মা-বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মৃত্যুশয্যায়ও শিশুসন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় মা-বাবা

মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকার একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুসহ দগ্ধ হওয়া মা-বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ওই দম্পতি মৃত্যুশয্যায় থেকেও খোঁজ নিচ্ছেন দুই সন্তানের। তাঁদের সঙ্গে যিনি-ই দেখা করতে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে আকুল হয়ে বারবার জানতে চাচ্ছেন, তাঁর সন্তানদের খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে কি না? ওরা কান্না করছে কি না?

গত বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মুক্তারপুরের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ কাউসার (৩২),

তাঁর স্ত্রী শান্তা বেগম (২৮), ছেলে ইয়াসিন (৬) ও মেয়ে নুহু আক্তারকে (৩) উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ইয়াসিন ও নুহু ওই দিন রাতেই মারা যায়। দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না ওই দম্পতি।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস এম আইউব হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো সময় ওই দম্পতির অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। শ্বাসনালি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পরও উন্নতি হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কাউসারের শরীরে ৫৪ শতাংশ, শান্তার শরীরে ৪৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ইয়াসিনের শরীরে ৪৪ শতাংশ ও নুহুর শরীরে ৩২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানা যায়।

ওই দুই শিশুর দুলাভাই মাসুদ মিয়া বলেন, ‘যতবার দেখা করতে গিয়েছি, ততবারই বাচ্চাদের কথা জানতে চেয়েছেন। ছোট মেয়ের জন্য দুধ নিয়েছি কি না? খাওয়াচ্ছি কি না? ছেলেটা কান্নাকাটি করছে না তো? কত প্রশ্ন! কিন্তু নিজেদের শরীরের কী অবস্থা, সেদিকে তাঁদের খেয়াল নেই। কথা বলছেন আর চোখের পানি ঝরছে।’

মাসুদ আরো বলেন, ‘কাউসার শাহ সিমেন্টের জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতেন। মুক্তারপুরের চর মুক্তারপুর এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। আমরা ধারণা করছি, মশারি বা জানালা দিয়ে কারো ফেলা সিগারেটের মাধ্যমে আগুন লাগতে পারে। অথবা কয়েলের আগুনও হতে পারে। কিভাবে কী হলো, এখনো বুঝতে পারছি না।’

তবে স্থানীয় লোকদের ভাষ্য অনুযায়ী বিকট শব্দে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন জানায়, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে জয়নাল মিয়ার ভাড়াটিয়াদের ঘরে একটি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে ঘরের বাসিন্দাদের দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

তবে কিভাবে আগুন লেগেছে, এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি মুন্সীগঞ্জ থানা পুলিশও। জানানো হয়েছে, তদন্ত না করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

 



সাতদিনের সেরা