kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

লকডাউনে দুর্ভোগ বাড়বে প্রবাসীদের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লকডাউনে দুর্ভোগ বাড়বে প্রবাসীদের

করোনা মহামারি মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার ‘লকডাউন’ হলে দুর্ভোগ বাড়বে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের। তাঁদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। আবার নতুন চাকরি পাওয়াও কঠিন হবে। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে প্রবাস থেকে দেশে পরিবারকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর।

বিজ্ঞাপন

লকডাউনের কারণে যোগাযোগ সীমিত থাকবে। এতে বিদেশে কর্মী যাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘বিশ্ব অভিবাসন’ প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহামারি প্রবাসী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। মহামারির শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংক রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাহ কমার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে সরকারি প্রণোদনা এবং দেশে চাকরি হারানো স্বজনদের জন্য ঘোষিত সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ আবার বিদেশ থেকে দেশে ফেরার আগে তাঁদের জমানো অর্থ রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠানোর কথাও বলেছেন।

আইওএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিড মহামারির কারণে গত বছর মার্চ মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরেছেন। গত বছর জুলাই মাসের এক হিসাবে দেখা যায়, মহামারির সময় যাঁরা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশ বেকার। গত বছর জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০১৯ সালের ওই সময়ের মধ্যে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ দুই হাজার ৪০০।

প্রতিবেদনে কভিডের নতুন ঢেউয়ের কারণে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত বিঘ্নিত হওয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য। সেখানে খাদ্য, আতিথেয়তা ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে।

আইওএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘায়িত লকডাউন ও বেকারত্ব প্রবাসীদের আয় ও রেমিট্যান্সে প্রভাব ফেলবে। ফলে বাংলাদেশে তাঁদের পরিবারগুলো ঝুঁকিতে পড়বে। তাঁদের খাদ্য, পোশাক ও শিক্ষার মতো জরুরি প্রয়োজনগুলো মেটানোর সামর্থ্য কমবে। ’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের বিদেশি আয়ের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে তাঁদের পরিবার দৈনিক খরচের ৮৫ শতাংশ মেটায়। এসব পরিবারের প্রায় ৬০ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পুরোপুরি রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭৪। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীরা ২০১৯ সালে এক হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি দেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে এসেছে যাঁরা ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)’ দেশগুলোতে প্রধানত ‘অদক্ষ’ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

আইওএম বাংলাদেশের অফিসার ইনচার্জ ফাতিমা নুসরাত গাজ্জালি বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর কভিড-১৯ অতিমারির নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ২০২০ সালে দুই হাজার ১৭৬ কোটি ২১ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে। অভিবাসন বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী মানুষের বাস্তুচ্যুতি বেড়েছে : আইওএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কভিডের কারণে বিশ্বব্যাপী চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিপর্যয়, সংঘাত ও সহিংসতার কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। বিশ্বে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ২৮ কোটি ১০ লাখ। অভিবাসী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে ষষ্ঠ এবং রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে অষ্টম স্থানে আছে।

প্রতিবেদন সম্পর্কে আইওএমের মহাপরিচালক অ্যান্টোনিও ভিটোরিনো বলেন, ‘আমরা একটি বৈপরীত্য লক্ষ্য করছি, যা মানব ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। কভিড-১৯-এর কারণে শত কোটি মানুষ আটকা পড়েছে। তার পরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুতির ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে বাধ্য হয়েছেন। ’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে যাত্রীসংখ্যা ছিল সাড়ে চার শ কোটি। ২০২০ সালে কমে ১৮০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দুর্যোগ, সংঘাত ও সহিংসতার ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সাড়ে চার কোটি। এটি এক বছর আগে ছিল তিন কোটি ১৫ লাখ।

প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী আট কোটি ৪০ লাখ থেকে ২০২০ সালে ২৮ কোটি ১০ লাখে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.৬ শতাংশ। কভিডের কারণে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ কম ছিল।

 



সাতদিনের সেরা