kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সেই দুই শিশু বাবার কাছে থাকবে

জাপানি মা পাবেন বছরে ৩০ দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই দুই শিশু বাবার কাছে থাকবে

দুই শিশু তাদের জাপানি মায়ের কাছে নয়, বাবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ইমরান শরীফের হেফাজতে থাকবে। জাপানি মা এরিকো নাকানো বছরে তিনবার বাংলাদেশে এসে প্রতিবার ১০ দিন করে দুই শিশুর সঙ্গে থাকতে পারবেন। এ ছাড়া ছুটির দিনে অন্তত দুইবার শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কলে মাকে কথা বলিয়ে দেবেন বাবা। বাংলাদেশে অবস্থানের সময় মায়ের সব খরচ বাবাকেই বহন করতে হবে। আর গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত খরচ বাবদ মা নাকানো এরিকোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে বাবা ইমরান শরীফকে।

গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এ ছাড়া ওই দম্পতির ছোট আরেকটি শিশুকে নিয়ে করা বাবার রিট খারিজ করে দেন আদালত। ছোট শিশুটি মায়ের কাছেই থাকবে।

আদালতে শিশুদের বাবার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। তাঁদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম ও ফাইজা মেহরিন। জাপানি মায়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

রায়ে আদালত বলেন, এ রিট চলমান থাকবে। দুই মেয়ে বাবা ইমরান শরীফের হেফাজতে থাকবে। মা দেখা-সাক্ষাৎ এবং একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। যেহেতু মা জাপানি নাগরিক এবং সেখানে বসবাস ও কর্মরত, সে কারণে তিনি তাঁর সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশে এসে শিশুসন্তানদের সঙ্গে প্রতিবার কমপক্ষে ১০ দিন সময় কাটাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বছরে তিনবার বাংলাদেশে যাওয়া-আসাসহ প্রতিবার ১০ দিন অবস্থানের সব খরচ ইমরান শরীফকে বহন করতে হবে। এর বাইরে যাওয়া-আসার খরচ দরখাস্তকারী (মা) বহন করবেন। ছুটির দিনে অন্তত দুবার শিশুদের সঙ্গে ভিডিও কলে মাকে কথা বলিয়ে দেবেন বাবা। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অবস্থান এবং যাতায়াত খরচ বাবদ আগামী সাত দিনের মধ্যে ইমরান শরীফ জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোকে ১০ লাখ টাকা দেবেন।

রায়ে আরো বলা হয়, রিটটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্য কোনো আদেশের জন্য আদালতে পক্ষগুলো আসতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। প্রতি তিন মাস পর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রতিবেদন দিতে হবে।  

২০০৮ সালের ১১ জুলাই এরিকো নাকানো ও ইমরানের বিয়ে হয়। তাঁদের তিন মেয়ে সন্তান। গত ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। পরে ছোট মেয়েকে তার নানির কাছে রেখে গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন এরিকো নাকানো। ইমরানের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে শিশুকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে গত ১৯ আগস্ট রিট আবেদন করেন তিনি। অন্যদিকে ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে আরেকটি রিট আবেদন করেন ইমরান।

এরিকো নাকানো ও ইমরানের পৃথক রিটের ওপর গত ৩১ অক্টোবর শুনানি শেষ হয়। গতকাল রায় দেন আদালত। রায়ের আগে উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে দুই শিশু তাদের মা এরিকোর সঙ্গে গুলশানের বাসায় ছিল। শিশুদের বাবা ইমরান দিনের বেলায় তাদের সঙ্গে দেখা করতে ও সময় কাটাতে পারতেন।



সাতদিনের সেরা