kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৯৩ শতাংশ রোগী সরকারি হাসপাতালে ওষুধ পায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৯৩ শতাংশ রোগী সরকারি হাসপাতালে ওষুধ পায় না

সেবার মান বাড়ার পরও দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ৯৩ শতাংশ রোগী কোনো ওষুধ পায় না। প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে ছুটতে হয় বেসরকারি হাসপাতালে। এমন তথ্য উঠে এসেছে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায়। গতকাল রবিবার ঢাকার একটি হোটেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূরসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণা তথ্য তুলে ধরা হয়।

‘নিজ পকেট থেকে গৃহস্থালি ব্যয় সংকোচনের কৌশল’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশের মানুষের কথা অনুধাবন করেই আট বিভাগে ১৫ তলাবিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি, লিভার চিকিৎসার হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব রোগে প্রতিবছর দেশে সর্বাধিক মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়। ব্যাপারটির গুরুত্ব অনুধাবন করেই দেশের আট বিভাগে আটটি উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে।

গবেষণার বরাত দিয়ে অনুষ্ঠানে বলা হয়, মাত্র ৩ শতাংশ রোগী সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ওষুধ পায়। বেশির ভাগ রোগীকে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনা এবং ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষা করাতে হয়। এতে তাদের খরচ অনেক বেড়ে যায়। ফলে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হয় অনেক রোগী।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ৮ শতাংশ এবং ওষুধে ৬৪ শতাংশ ব্যয় নিজেদেরই বহন করতে হয়। গ্রাম পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর নয়। শহর এলাকায়ও পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই। এ কারণে রোগীরা চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক নুরুল আমিন বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক বাদে প্রায় সব ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই কেনা যায়। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণনও মাত্রাতিরিক্ত। স্বীকৃত ডাক্তারদের পাশাপাশি পল্লী ও হাতুড়ে চিকিৎসকরাও ব্যবস্থাপত্রে অতিমাত্রায় ওষুধ লেখেন। এতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ওষুধ সেবন করে রোগীরা। ফলে চিকিৎসার খরচও বেড়ে যায়। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ পদ্ধতি না থাকা, সেবার মান ও মূল্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকায় সেবা গ্রহণকারীরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জরুরি ওষুধের তালিকা সংশোধন ও সম্প্রসারণের পক্ষে মত দেন নুরুল আমিন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে প্রটোকল অনুসরণ করে কম্পানির ওষুধের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের পরিবর্তে জেনেরিক নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে এই ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট সেলের ফোকাল পারসন ডা. সুব্রত পাল বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বাজেট কম। একই সঙ্গে দেশের জনপ্রতি স্বাস্থ্য খাতে খরচও কম। শুধু সরকারি অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন।



সাতদিনের সেরা