kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রস্তাব

চীন রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেয়নি, আবার পক্ষেও ছিল না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীন রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেয়নি, আবার পক্ষেও ছিল না

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়নি চীন ও রাশিয়া। আবার প্রস্তাবটিকে পুরোপুরি সমর্থনও করেনি দেশ দুটি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রস্তাবটি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে গৃহীত হয়েছে ভোটাভুটি ছাড়াই। কারণ প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়ার জন্য কোনো দেশ অনুরোধ করেনি।

বিজ্ঞাপন

এর ফলে তা সর্বসম্মতভাবেই গৃহীত হয়েছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চীন ও রাশিয়া অতীতে এ ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এবার তারা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির অনুরোধ যেমন জানায়নি তেমনি প্রস্তাব থেকেও নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল। অর্থাৎ ওই প্রস্তাবের সঙ্গে তারা ছিল না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার আগে চীনের প্রতিনিধি বলেন, তাঁর দেশ মিয়ানমার পরিস্থিতির কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সব পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। কভিড-১৯ মহামারির সময় টিকা দিয়ে মিয়ানমারের জনগণকে চীনের সহযোগিতার কথা তিনি জানান।

চীনের প্রতিনিধি আরো বলেন, তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মানবাধিকার বিষয়কে ব্যবহারের বিরোধী। এ কারণে তাঁরা প্রস্তাবের খসড়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

রাশিয়ার প্রতিনিধি কৌশলে ওই প্রস্তাবকে একতরফা অভিহিত করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া কোনো দেশের বিষয়ে একতরফা, নির্বাচিত ও উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব সমর্থন করে না। এ কারণে এই প্রস্তাবের সঙ্গে তাঁরাও থাকছেন না। তবে অন্য দেশগুলো যেভাবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে এবং সেখানে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারের সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছে তার প্রশংসা করেন রাশিয়ার প্রতিনিধি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, চীন ও রাশিয়া সাধারণত কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাবকে সমর্থন

করে না। এবার দেশ দুটি রোহিঙ্গাবিষয়ক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট না দিলেও প্রস্তাব থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। চীন ও রাশিয়া কোনো দেশের মানবাধিকার বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ সমর্থন করে না।

ঢাকা ও নিউ ইয়র্কের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গৃহীত হওয়া বা বিরুদ্ধে কারো ভোট না দেওয়ার বিষয়টি একধরনের ঐকমত্যের প্রতিফলন। তবে সাধারণ পরিষদের এ ধরনের প্রস্তাব কেউ মেনে না চললে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান নেই। রোহিঙ্গা বা মিয়ানমার ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদ এখনো কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। শিগগিরই নেবে—এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির আটলান্টিক কাউন্সিলের এক ওয়েবিনারে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট এ অঞ্চলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ তার প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ। উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।



সাতদিনের সেরা