kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

এখন মন্দিরে থাকছেন শান্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখন মন্দিরে থাকছেন শান্ত

প্রান্ত চন্দ্র দাস

ছোটবেলা থেকে ধর্মের প্রতি ভালোবাসা ছিল প্রান্ত চন্দ্র দাসের (২১)। মা-বাবার হাত ধরে তিনি এসেছিলেন নোয়াখালীর চৌমুহনীর ঐতিহ্যবাহী ইসকন মন্দিরে। জেলার চাটখিল উপজেলার সাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে এসএসসি পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন মন্দিরের পাশে চৌমুহনীর এতিহ্যবাহী এসএ কলেজে। মন্দিরে থেকে তিনি ধর্মীয় কাজ ও পড়াশোনা করতেন। এ বছর তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু গত ১৬ অক্টোবর ভোরে প্রান্তর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় মন্দিরসংলগ্ন পুকুর থেকে। আগের দিন ১৫ অক্টোবর দুপুরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে পুকুরটিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি।

চাটখিলের সাহাপুর গ্রামের নুকুল চন্দ্র দাস ও বনলতা দাসের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে প্রান্ত ছিল ছোট। সবার আদরের। বুকের ধন প্রান্তকে হারিয়ে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মা বনলতা। নকুল চন্দ্রের অবস্থাও ভালো নয়। দুই বছর আগে তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী।

প্রান্তর বড় ভাই শান্ত দাস শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে চলেন। গত শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কথা হয় শান্তর সঙ্গে। তিনি জানান, তাঁর মা বিশ্বাস করেন মন্দির একটি নিরাপদ স্থান। তাই প্রান্তকে মন্দির চত্বরে অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছিলেন মা। এ নিয়ে চিন্তা ছিল না তাঁর, কিন্তু অঘটন ঘটল। মায়ের বুক খালি হয়ে গেল। শান্ত বলেন, ‘প্রান্তর মৃত্যুতে আমার মায়ের হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি সব কিছু হারিয়েছেন। অর্থ-সম্পদ দিয়ে কী করবেন।’

শান্ত আরো বলেন, ‘আমরা এখন আমাদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি। আমরা আরো হামলার আশঙ্কা করছি। ফলে এই মুহূর্তে আমি নিজেই মন্দিরে অবস্থান করছি।’

প্রান্তর মৃত্যুর পর অনেকে সহানুভূতি দেখিয়েছেন আবার কেউ কেউ অর্থ সাহায্য দিয়েছেন বলে জানান শান্ত। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন ছাড়াও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন পাঁচ লাখ টাকা, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী দুই লাখ, বেগমগঞ্জের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরন ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার কথা বলেছেন। শান্ত বলেন, ‘আমরা সবার নিকট কৃতজ্ঞ। তবে এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে ভাইয়ের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে।’ আর যেন এ ধরনের বর্বরোচিত কাণ্ড দেশে না ঘটে, সে প্রত্যাশা করেন শান্ত।

চৌমুহনী ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি রসোপ্রিয় দাস রত্নেশ্বর জানান, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে মন্দিরে প্রবেশ করে হামলা কোনোভাবে তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রান্ত আমাদের মন্দিরে থেকে ধর্মীয় কাজের সঙ্গে পড়ালেখা করত। তাঁকে এভাবে প্রাণ দিতে হবে ভাবতে পারছি না। তবে এ ঘটনার পর সরকারি-বেসরকারিভাবে যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রান্তর পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা এ হামলার সূষ্ঠু বিচার দাবি করছি। ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায় তার ব্যবস্থা করাও প্রয়োজন।’

 



সাতদিনের সেরা