kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মাতারবাড়ী জেটিতে সব কাজ গ্রিন এন্টারপ্রাইজের

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাতারবাড়ী জেটিতে সব কাজ গ্রিন এন্টারপ্রাইজের

মাতারবাড়ীতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি জেটিতে গত ডিসেম্বর থেকেই জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজটি একাই করছে গ্রিন এন্টারপ্রাইজ। গত জুলাই মাসে সেখানে নতুন আরেকটি জেটি নির্মিত হয়েছে, সেই জেটির কাজটিও করছে একই প্রতিষ্ঠান। মৌখিক অনুমতির ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানে জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর কাজটি দিয়েছে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনকে। ওই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হওয়ার সুবাদে এ কে এম শামসুজ্জামান রাসেল কাজটি একচেটিয়া করছেন। তিনি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর গ্রিন এন্টারপ্রাইজের মালিক ও বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং, বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

এখন পর্যন্ত মাতারবাড়ীর দুটি জেটিতে কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ৩২টি জাহাজ ভিড়েছে। আর সব জাহাজের পণ্য নামানোর কাজ একাই করছে গ্রিন এন্টারপ্রাইজ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরসচিব ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাতারবাড়ী জেটি এখনো আমাদের হয়নি। এখনো সেই জেটি বিদ্যুেকন্দ্রের। তবে পরিচালনাটা আমরা করছি। তাই সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে শিপ হ্যান্ডলিং অ্যাসোসিয়েশনকে বলা হয়েছে কার্গো হ্যান্ডলিং কাজটা করার জন্য। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কিন্তু কাজ করতে বলা হয়নি। যখন আমাদের হাতে জেটি আসবে, তখনই দরপত্র ডেকেই অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তার আগ পর্যন্ত এটা সাময়িক পদক্ষেপ।’

শর্ত সাপেক্ষে হলেও চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পণ্য ওঠানামার কাজে দরপত্রের মাধ্যমেই বার্থ অপারেটর নিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু শিপ হ্যান্ডলিংয়ে কেন সেটা করা হচ্ছে না জানতে চাইলে বন্দরসচিব বলেন, ‘দেখুন, বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামার কাজে বন্দরের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। মাতারবাড়ী জেটির ক্ষেত্রেও তাই। তাই আমরা সেখানে শুধু প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন করেই কাজ সারি। যখন এই জেটিতে অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পণ্য নামানোর সুযোগ হবে, তখনই আমরা দরপত্র ডাকব।’ 

বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য নামানোর কাজটি করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। চট্টগ্রাম বন্দরের নিবন্ধিত ২৭টি অপারেটর প্রতিষ্ঠান পযার্য়ক্রমে সেই কাজটি করছে। কিন্তু মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে চলছে একক রাজত্ব। সব জাহাজের কাজ একচেটিয়া বাগিয়ে

নেওয়ায় বাকি শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা চরম ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে তারা শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেছে।

সি কোস্ট শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ কালের কণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, ‘সভাপতির জোর খাটিয়ে শামসুজ্জামান রাসেল এই ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কাজ করতে পারেন না। এতে আমরাই শুধু কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি না, নির্দিষ্ট কিছু শ্রমিক ছাড়া বাকি শ্রমিকরাও কাজ পাচ্ছে না। আর একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে দেওয়ায় ভবিষ্যতে এই জেটিতে বন্দর দরপত্র ডাকলে গ্রিন এন্টারপ্রাইজই তো যোগ্য হয়ে উঠবে। তাহলে ৪০ বছর ধরে আমরা কী করলাম?’

তিনি প্রশ্ন করেন, একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করার কারণে সেখানে শ্রম অসন্তোষ তৈরি হলে এর দায় কে নেবে?

শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের অভিযোগ, অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও মুনাফা বেশি এমন জাহাজগুলো বরাদ্দ নিতেন শামুসজ্জামান রাসেল ও তাঁদের কয়েকজনের সিন্ডিকেট। তাঁরা একজোট হয়ে লাভজনক জাহাজগুলো বরাদ্দ নিয়ে কম লাভের জাহাজগুলো সংগঠনের অন্য সদস্যদের বরাদ্দ দিতেন। এ নিয়ে যে সদস্য প্রতিবাদমুখর থাকতেন তাঁকে কয়েকটি ভালো মুনাফার জাহাজ দিয়ে সন্তুষ্ট রাখতেন। এই নিয়মেই চলছে সব কিছু।

এ বিষয়ে শ্রম দপ্তরে অভিযোগ করার পর হঠাৎ করে জাহাজ বরাদ্দের কমিটির কয়েক সদস্যকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো কয়েকজন দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে দেন রাসেল। এখন সেই কমিটিও আগের নিয়মেই চলছে বলে অভিযোগ শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান রাসেল বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানকে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটিতে কাজ করার অনুমতি দেয়নি চট্টগ্রাম বন্দর। অ্যাসোসিয়েশনকে সেই জেটিতে পণ্য ওঠানামার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সভাপতি হিসেবে আমি কাজটি করছি ঠিক, কিন্তু পর্যায়ক্রমে সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে।’

সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে একাই কাজটি করছেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের অনুমতি নিয়েছি কাজটি করার জন্য। আর এই জাহাজ থেকে পণ্য নামানো হলেও পণ্যের পরিমাণ কম। লাভের অংশ সামান্য।

কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ২০২০ সালে। কিন্তু তার আগেই প্রস্তুত হয়েছে ২৫০ মিটার প্রস্থ, ১৮ মিটার গভীরতা এবং ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল। এই চ্যানেল বা প্রবেশপথ দিয়েই বঙ্গোপসাগর থেকে জাহাজ বন্দর জেটিতে প্রবেশ করবে। জাহাজ প্রবেশের চ্যানেলের এক পাশে নির্মিত হয়েছে তিনটি জেটি, যেগুলো ব্যবহৃত হবে বিদ্যুেকন্দ্রের নির্মাণসামগ্রী ওঠানামার কাজে। আর অপর পাশেই গড়ে উঠবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। এই সমুদ্রবন্দর চালু হবে ২০২৫ সালে। কিন্তু তার আগেই ব্যবহার শুরু হচ্ছে সমুদ্রবন্দরের জন্য নির্মিত চ্যানেল বা জাহাজ প্রবেশের পথ।



সাতদিনের সেরা