kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

বান্দরবানে প্রবারণা উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বান্দরবানে প্রবারণা উৎসব শুরু

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের মারমা জনগোষ্ঠীর মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ বা প্রবারণা উৎসব শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বান্দরবান কেন্দ্রীয় রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারে এবং সন্ধ্যা ৭টায় উজানীপাড়া মহা বৌদ্ধ বিহারে ফানুস উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এ উৎসবমালার সূচনা ঘটে। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে শুরু করে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত টানা তিন মাস বর্ষাবাস (ওয়া) পালন শেষে উপষদব্রত গ্রহণকারীদের বৌদ্ধ বিহার থেকে বেরিয়ে আসা উপলক্ষে প্রবারণা উৎসব উদযাপন করা হয়।

অন্যবার ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর থেকে এই উৎসব সংক্ষিপ্ত করে উদযাপন করা হচ্ছে।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি থেওয়াং মার্মা জানান, বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রথ টেনে শহরের রাজগুরু বৌদ্ধবিহার এবং উজানিপাড়া মহা বৌদ্ধবিহারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে উপষদব্রত পালনকারীরা বিহার প্রাঙ্গণে এসে রথে প্রদীপ পূজা দেবেন। এ ছাড়া রাতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজগুরু বিহারসংলগ্ন মহাবোধি বৃক্ষতলসহ বান্দরবান পৌর এলাকার পাঁচটি স্থানে পিঠা তৈরি উৎসব হবে। বৃহস্পতিবার ভোরে বৌদ্ধ ভিক্ষু, উপষদব্রত পালনকারী ও প্রবীণদের জন্য পিঠা নিয়ে যাওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দরবান শহরের পুরনো রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ থেকে রথ টেনে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। এ সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রদীপ পূজা, দান এবং প্রণাম করবেন। এরপর সুসজ্জিত রথ দুটিকে উজানিপাড়া ঘাটে অরহত উপগুপ্তের (উপবু আশাং) উদ্দেশে শঙ্খ নদের জলে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অনলাইনে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ‘প্রবারণার শিক্ষা’ শীর্ষক আলোচনাসভা ও শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক মং নু চিং এ তথ্য জানান।

বৌদ্ধ ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন, রাজকুমার সিদ্ধার্থ ‘বুদ্ধত্ব’ লাভের উদ্দেশে সংসার ত্যাগ করে রাজবাড়ী থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে আসেন। কিছুটা পথ পেরিয়ে নদীর তীরে এসে ঘোড়ার গাড়ি ও সারথীকে বিদায় দিয়ে একা পথ চলতে শুরু করেন। হঠাৎ সিদ্ধার্থের মনে হয়, তিনি ঠিক পথে বেরিয়েছেন কি না কিংবা তাঁর উদ্দেশ্য সফল হবে কি না তা পরখ করে দেখা দরকার। সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর মাথার চুল কেঁটে ওপর দিকে ছুড়ে দেবেন। তাঁর উদ্দেশ্য সঠিক হলে চুলগুলো আকাশে উড়ে যাবে। পথ সঠিক না হলে কর্তিত চুল মাটিতে পড়বে। এরপর সিদ্ধার্থ মাথার লম্বা চুল তরবারি দিয়ে কেটে আকাশের দিকে ছুড়ে দেন। এ সময় দেবতারা মর্ত্যে নেমে এসে সিদ্ধার্থের কর্তিত চুল বুকে ধরে মহাকাশে চুলামনি মন্দিরে নিয়ে যান।

এরপর সিদ্ধার্থ রাজবেশ, তরবারি ও অন্য মূল্যবান সামগ্রী খুলে রেখে সংসার ধর্ম ত্যাগ করে অজানা গন্তব্যের উদ্দেশে পা বাড়ান এবং দীর্ঘ সাধনা শেষে ‘বুদ্ধত্ব’ লাভ করে ফিরে আসেন। সিদ্ধার্থের চুল ছেদন ও আকাশে উঠে যাওয়ার ঘটনা স্মরণে ফানুসে ঘি-এর বাতি জ্বালিয়ে চুলামনি মন্দিরের উদ্দেশে প্রদীপ পূজা পাঠানো হয়। সে কারণেই প্রবারণা পূর্ণিমার প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে উঠে ফানুস উড়ানো।



সাতদিনের সেরা