kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাহাঙ্গীরনগরে হল খুলেছে, ক্লাস শুরু ২১ অক্টোবর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জাহাঙ্গীরনগরে হল খুলেছে, ক্লাস শুরু ২১ অক্টোবর

প্রায় দেড় বছর পর খুলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল। গতকাল নিজ নিজ হলে ঢোকার পথে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনা মহামারিতে দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করলে ১৬টি আবাসিক হলে তাঁদের ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সকালের হালকা নাশতা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। যেসব শিক্ষার্থী এখনো টিকা নেননি তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প। ২১ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে। পাশাপাশি অনলাইনেও চলবে ক্লাস।

গতকাল সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করা শুরু করেন। হলে প্রবেশের সময় পরীক্ষা করা হয়েছে শরীরের তাপমাত্রা, হাতে দেওয়া হয়েছে স্যানিটাইজার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধিসংক্রান্ত নির্দেশিকা। এ ছাড়া যাঁদের করোনা টিকার সনদ নেই তাঁদের টিকার জন্য ফরম পূরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে হলে থাকতে পারেন তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। হলের কক্ষগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে আমাদের কর্মীরা প্রস্তুত। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কক্ষ পরিষ্কারে সব ধরনের সহায়তা করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘হলে অক্সিজেন সিলিন্ডারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলে তাঁকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে। আর যেসব শিক্ষার্থী এখনো টিকা নেননি তাত্ক্ষণিক রেজিস্ট্রেশন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাকেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে হলে উঠতে পারবেন তাঁরা।’

দীর্ঘদিন পর হল খুলে দেওয়ায় এবং ক্যাম্পাসে ফিরতে পারায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসজুড়েই যেন উৎসবের হাওয়া লেগেছে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের (৪৫তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শামীম মিয়া বলেন, ‘দেড় বছর পর আবাসিক হল খুলে দেওয়ায় খুব ভালো লাগছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই একটু দেরিতে হলেও তারা হল খুলে দিয়েছে।’

৪৫তম ব্যাচের আইন ও বিচার বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নৌরিন নাহার অরিন বলেন, ‘সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রিয় ক্যাম্পাসে এসে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। আর হল এভাবে আমাদের বরণ করে নেবে, তা ভাবিনি। দীর্ঘদিন পর এভাবে হলে ফিরতে পেরে প্রথম বর্ষের মতো অনুভূতি হচ্ছে।’

তবে ৪৯তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) সব শিক্ষার্থী এখনই হলে উঠতে পারছেন না। যাঁদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং করোনাভাইরাসের অন্তত এক ডোজ টিকা নেওয়া হয়েছে, তাঁরা নিজ নিজ হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হলে উঠতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোনো কক্ষ নেই। তাঁরা গণরুমে থাকেন। করোনার এই সময়ে গণরুমে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা তাঁদের গণরুমে উঠতে দিচ্ছি না। মাস্টার্সের অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে, অনেকের শেষ হওয়ার পথে। তাঁদের পরীক্ষা শেষে হলেই আবাসিক হলে আসন খালি হবে। তখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো হবে।’

টিকা ক্যাম্প চালু

এদিকে যেসব শিক্ষার্থী এখনো করোনাভাইরাসের টিকা নেননি তাঁদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া গবেষণা কেন্দ্রে অস্থায়ী টিকা ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই টিকা ক্যাম্প উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা এসএমএস পাননি বা এনআইডি কার্ড না থাকায় টিকা নিতে পারেননি, এই ক্যাম্পে তাঁদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মহিউদ্দীন সুমন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকাসংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী এক ডোজ পেয়েছেন এবং ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো টিকা পাননি। আর ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় টিকা নিতে পারেননি।

বাস সার্ভিস চালু

গতকাল থেকেই চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস। গতকাল শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়টি বাস চলেছে। তবে শুক্রবার ও অন্য ছুটির দিন চলবে পাঁচটি বাস। ২১ অক্টোবর থেকে ১৫টি বাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ৯টি বাস। এ ছাড়া শিক্ষকদের জন্য বর্তমানে চলছে ছয়টি বাস। ২১ অক্টোবর থেকে চলবে ১৩টি। শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের মার্চে অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ও আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত শনিবার সিন্ডিকেটের সভায় সোমবার হল খোলার এবং ২১ অক্টোবর থেকে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 



সাতদিনের সেরা