kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভরা পদ্মায় জমজমাট মাদক কারবার

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভরা পদ্মায় জমজমাট মাদক কারবার

বর্ষা মৌসুমে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক কারবার বেড়ে যায়। বর্ষার কয়েক মাসে পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি থাকায় ভারত থেকে অনায়াসে মাদকদ্রব্য আনতে পারেন কারবারিরা। সন্ধ্যার পর মাছ ধরা নৌকায় করে বেশির ভাগ মাদকের চালান বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে। আবার ওপার থেকে পলিথিনে বেঁধে ভারী কিছুর সঙ্গে মাদক পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে টেনে আনা হয় এপারে। কিন্তু পদ্মা শুকিয়ে গেলে এভাবে আর মাদক আনা সম্ভব হয় না।

সরেজমিন ঘুরে এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আত্মগোপনে থাকা গোদাগাড়ী এলাকার অনেক মাদক কারবারি পদ্মায় পানি বাড়ার পর এলাকায় ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাটিকাটা এলাকার সোহেল রানা, নয়ন ডাক্তার, শীষ মোহাম্মদ, আব্দুর রহিম টিপু প্রমুখ। এঁদের কেউ কেউ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য পদে ভোট করতেও প্রচারণায় নেমেছেন। আর প্রচারণায় খরচ করছেন মাদক কারবারের টাকা। আবার অনেক কারবারি পছন্দের প্রার্থীর হয়ে টাকা উড়াচ্ছেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর পবা উপজেলার বেড়পাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইঞ্জিনচালিত ছোট ছোট নৌকা মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাছ ধরার নামে এসব নৌকা মূলত ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় চলে যায়। এরপর মাদক নিয়ে গভীর রাতে ফিরে আসে। কোনো কোনো নৌকার সঙ্গে দড়ি বেঁধে দিয়ে ফেনসিডিলের বস্তা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর মাছ ধরার জালের মতো আস্তে আস্তে সেই বস্তা টেনে তোলা হয়।

বেড়পাড়া এলাকার মাহবুল হোসেন বলেন, ‘পদ্মায় পানি থাকায় সহজেই নৌকায় ফেনসিডিল আনা যায়। কিন্তু পদ্মা শুকিয়ে গেলে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতাও বেশি থাকে।’

মাদক কারবারের জন্য চিহ্নিত বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৯ সালে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর অনেক শীর্ষ মাদক কারবারি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। কালের কণ্ঠের সংবাদের পর দুই কোটি টাকার হেরোইন ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শীষ মোহাম্মদ এবং কোটি টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার হন গোদাগাড়ী পৌরসভার কাউন্সিলর মফা। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান মাটিকাটার সোহেল, মহিষালবাড়ীর শহিদুল ইসলাম ওরফে ভোদল ও জামায়াত নেতা হযরত আলীসহ অনেকেই। এঁদের মধ্যে মফা কারাগারে রয়েছেন। অন্যরা আবার এলাকায় ফিরেছেন। কেউ আবার রাজশাহী শহরে বসে মাদক কারবার চালাচ্ছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোড়াগাড়ীর ডিমভাঙ্গা এলাকায় একটি ক্লাবঘরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রাতে মাদক কারবারিদের আড্ডা বসে। উপজেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা বসে গোদাগাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল জব্বারের ছত্রচ্ছায়ায়। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা ছাড়া ওই ক্লাবে কারো আসার সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার।

উপজেলার মহিষালবাড়ীতে আরেক মাদক ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান কাজলের নেতৃত্বে বসে অপর একটি মাদক চক্রের আড্ডা। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এখন মাদকের বিস্তার চরম পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। গত ৪ সেপ্টেম্বর বারঘরিয়া এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার হেরোইনসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর বাইরে গত দুই মাসে এই জেলায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘বর্ষায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বেড়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে আমরা মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। অনেকেই জামিনে এসে এলাকায় কৌশলে অবস্থান করছে। তাদের বিষয়েও আমরা খোঁজখবর রাখছি।’



সাতদিনের সেরা