kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এক বছরের জামিন পেলেন ঝুমন দাশ

এখনো নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক বছরের জামিন পেলেন ঝুমন দাশ

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঝুমন দাশ আপনকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই এক বছর সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের অনুমতি ছাড়া সুনামগঞ্জের বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না ঝুমন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঝুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, জেড আই খান পান্না, নাহিদ সুলতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

এদিকে জামিনের শর্ত শুনে ঝুমনের পরিবার মামলা থেকে তাঁকে রেহাই দেওয়া এবং তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য দাবি জানিয়েছে। এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতাসহ সুধীজন। একই সঙ্গে হেফাজত অনুসারীদের হামলা মামলার আসামিদের শাস্তি দাবি করেছেন।

ঝুমন দাশের স্ত্রী সুইটি রানী দাশ বলেন, ‘আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট। এই মামলা থেকে তাঁর মুক্তি চাই। যারা আমাদের বাড়িঘরে লুটপাট, হামলা করেছিল, তাদেরও শাস্তি চাই।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ সরকার বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ পরিচয়ে নয়, সর্বশ্রেণির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মতামত ব্যক্ত করার জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলাম। বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়ে মত প্রকাশের জন্য একজন যুবকের কারাবাস আমাদের জন্য লজ্জার। আমরা তাকে মামলা থেকে রেহাই দানের দাবি জানাই।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনাম আহমেদ বলেন, ‘ঝুমন দাশের জামিনে আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি। তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। একই সঙ্গে যারা তাঁদের বাড়িঘরে লুটপাট ও হামলা করেছিল, তাদের শাস্তি চাই।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঝুমন দাশের জামিনের বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। তবে তিনি জেল থেকে বের হওয়ার পর যদি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করেন, তাহলে আমরা তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখব।’

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সমাবেশ করেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। ওই সমাবেশে ভাস্কর্যবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেন তিনিসহ অন্য হেফাজত নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মামুনুল হকের সমালোচনা করে পোস্ট দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামুনুল অনুসারীরা বিক্ষোভ করলে ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে আটক করে পুলিশ। ১৭ মার্চ দিরাই ও শাল্লার ছয়টি গ্রামের হেফাজত অনুসারীরা মসজিদের মাইকে ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়। তারা ৮৮টি বাড়িঘর ও পাঁচটি মন্দির ভাঙচুরসহ লুটপাট করে। এ হামলার ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা (দুটি শাল্লা থানায় ও একটি আদালতে) করা হয়। এসব মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এলাকায় অবস্থান করছে।

এদিকে ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে হেফাজত নেতার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাল্লা থানায় মামলা করে। তাঁকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে ঝুমনের জামিন না হওয়ায় গত ২২ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। তাঁর মুক্তির দাবিতে দেশ-বিদেশে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

হামলার ঘটনায় দেশ-বিদেশে তুমুল সমালোচনা হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গ্রামে নজর দেয় এবং পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে। ঘটনাস্থলে ছুটে যান র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নোয়াগাঁওয়ে গিয়ে গ্রামবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানায়।



সাতদিনের সেরা