kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভাগ্যের চাকা ঘোরাবে হিতামপুর মহিলা সমিতি

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাগ্যের চাকা ঘোরাবে হিতামপুর মহিলা সমিতি

কপোতাক্ষপারের জেলেপল্লী হিতামপুর। বংশপরম্পরায় এখানকার জেলেরা নদী-সাগরে মাছ ধরেন। আর জেলেবউরা ঘর সামলানোর পাশাপাশি নদীতে মাছ ধরে বিক্রিও করেন। প্রচলিত এসব কাজের বাইরে হিতামপুরের জেলেবউরা এবার অসামান্য এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন। দল বেঁধে তাঁরা ওই গ্রামে গড়ে তুললেন হিতামপুর মহিলা সমবায় সমিতি। এই সমিতির সব সদস্য নারী। এরই মধ্যে তাঁরা একটি জলমহাল বরাদ্দ পেয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় বিপুল আগ্রহ তৈরি করেছে। এমন ঘটনা জেলায় তো বটেই, দেশের ইতিহাসেও সম্ভবত প্রথম।

খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে হিতামপুর গ্রামের অবস্থান। এই জেলেপল্লীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ নদ। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘জেলেপাড়ায় ভগবান আসে না’। তবে হিতামপুরের জেলেরা সে ধারণা পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সরকারের আইনে আছে, মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে জলমহাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর মৎস্যজীবী চিহ্নিত করতে দেওয়া হয় মৎস্যজীবী কার্ড।

হিতামপুর জেলেপল্লীর প্রায় সবাই মৎস্যজীবী কার্ড পেয়েছেন। এখানকার পুরুষ জেলেরা বছরে পাঁচ মাস গভীর সাগরে মাছ ধরেন। এই সময়টায় তাঁরা থাকেন সুন্দরবন পেরিয়ে সাগরকূলের দ্বীপ দুবলায়। মাছ বিক্রির জন্য মাঝে মাঝে মোংলা বা খুলনায় আসেন। তখন সামান্য সময়ের জন্য কেউ হয়তো বাড়ি আসেন। জেলেদের অবর্তমানে পরিবারের সব দিক সামাল দেওয়া জেলেবউরা এবার দারুণ চমক সৃষ্টি করলেন সমবায় সমিতি গড়ে। তাঁদের এই উদ্যোগে সাহস জুগিয়েছে উত্তরণ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটি নারীর ক্ষমতায়ন, ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বিতরণে সহায়তা দেয়। সমবায় সমিতি গড়ে তোলার প্রাথমিক সব কাজে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছেন উত্তরণের কর্মী মাহফুজা খাতুন। শেষে নিবন্ধনের মাধ্যমে বাস্তবতা পেল হিতামপুর মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেড।

সমিতির নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে সঞ্চয় জমা করছিলেন তাঁরা। এরপর ভাবতে শুরু করলেন বড় কোনো কাজের কথা। এরই অংশ হিসেবে তাঁরা উদ্যোগ নিলেন জলমহাল বরাদ্দ নেওয়ার। শুরুতে কিছুটা দ্বিধা ছিল জলমহাল বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে। কারণ, এটির আকার প্রায় ২৪ একর। তবে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে করোনাকালের মধ্যেই গত জুন মাসে হিতামপুর মহিলা সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে তিন বছরের জন্য জলমহালটি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই উদ্যোগেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তরণ।

হিতামপুর মহিলা সমবায় সমিতির সদস্য ২৩ জন নারী। সমিতির সভাপতি বন্দনা বিশ্বাস। স্বামী হারিয়ে চারপাশে অন্ধকার দেখছিলেন। কিন্তু নিজের শ্রমেই সংসারের হাল ধরেন। তিন সন্তানকে বড় করতে থাকেন। শ্রমের প্রতি বিশ্বাসী সেই বন্দনা জলমহালে মাছের চাষ করে তাঁর সমিতির সব সদস্যের  ভাগ্য ফেরাতে চান।

কালের কণ্ঠকে বন্দনা বিশ্বাস বলেন, ‘অভাব কী, তা আমরা জানি। আমি নিজেও অভাবের সংসার টানছি। এখন এই জলমহালে মাছ চাষ করে আমরা ভাগ্য ফেরাতে চাই।’

হিতামপুরের জেলেবউরা সমবায় সমিতি গড়ে তাঁদের ভাগ্য ফেরাতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা এগিয়ে চলেছেন।



সাতদিনের সেরা