kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বক ও পানকৌড়ির মিলেমিশে বসবাস

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বক ও পানকৌড়ির মিলেমিশে বসবাস

প্রতিবছর জুন থেকে অক্টোবর—এই পাঁচটা মাস ওরা নির্ভয়ে কাটায়। ১৫ বছর ধরে এ ধারা অব্যাহত আছে। দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে ওরা আসে। নিরাপদ আশ্রয়স্থল বলে কিচিরমিচির শব্দে চারপাশ মুখরিত করে তোলে। দল বেঁধে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা এই পাখির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন জাতের বক আর পানকৌড়ি। ময়মনসিংহের নান্দাইলের খামারগাঁও গ্রামের মাস্টারবাড়ির বাঁশঝাড়ে ওরা গড়ে তোলে নিজেদের নিবাস। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পাখির কলকাকলিতে মুখরিত পুরো এলাকা। ওদের ওড়াউড়িতে পথচারীদের মন আনন্দে ভরে যায়।

বিভিন্ন স্থানে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়লেও খামারগাঁও গ্রামের এই নিরাপদ পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবেশবিদরা।

এই গ্রামে বক ও পানকৌড়ির আসা শুরু হয় ১৫ বছর আগে। পাঁচ মাস এই গ্রামের বাঁশঝাড়ে অবস্থান করে প্রজনন শেষে বাচ্চা নিয়ে ফের চলে যায় অন্য কোনো নিরাপদ ঠিকানায়।

খামারগাঁও গ্রামের স্কুল শিক্ষক (মৃত) আব্দুল আওয়াল ও তাঁর ভাতিজা আবু তাহেরের বাড়ির পাশে এই বাঁশঝাড়। আশপাশে কোথাও আর এমনটি নেই। প্রতিবছর জুন মাসে বক আর পানকৌড়ির ঝাঁক আসতে শুরু করে এই বাঁশঝাড়ে। বাসা তৈরি থেকে ডিম পাড়া, বাচ্চা ফোটানো, উড়তে শেখানো পর্যন্ত তারা ওখানে অবস্থান করে। পাঁচ মাস পর অক্টোবরের শেষ দিকে ওরা বাচ্চা নিয়ে চলে যায়। এই মাসগুলোতে পাখির কলকাকলিতে এলাকাটি মুখরিত থাকে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে পাখিদের সৌন্দর্য উপভোগ করে। এখানকার লোকজনের সতর্কতায় পাখি শিকারিরা ঘেঁষতে পারে না।

সরেজমিনে সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় ওই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দল বেঁধে শত শত পাখি বাসায় ফিরছে। এসব পাখির কলরবে এলাকাটি মুখরিত। কাছে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাঁশে একই সঙ্গে ১০ থেকে ১২টি বক ও পানকৌড়ি অবস্থান করছে। ওখানকার লোকজন জানায়, ভোরবেলায় পাখিগুলো দল বেঁধে খাবার সংগ্রহে দূর-দূরান্তের বিলে চলে যায়। ওই গ্রামের পাশে রয়েছে জাইল্যা ও জলা বিল নামে দুটি বড় বিল। সেখানেই মূলত পাখিগুলো খাদ্য সংগ্রহে ছুটে যায়।

ময়মনসিংহ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানান, বর্ষাকাল এসব পাখির প্রজননকাল। এ সময় প্রতিটি স্ত্রী বক দুই থেকে তিনটি ডিম পাড়ে। ২১ থেকে ২৫ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। আর বাচ্চাগুলো স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে ৪০ থেকে ৪৫ দিন। অন্যদিকে একটি স্ত্রী পানকৌড়ি চার থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ২৭ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। ৩৫ থেকে ৪০ দিনে বাচ্চারা উড়তে শিখলেও স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে তিন মাস। প্রজনন মৌসুমে বক ও পানকৌড়ি একই গাছে পরপর কয়েক বছর বাসা বাঁধে। স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার কথা ভেবে বাচ্চা নিয়ে ওরা অন্য কোথাও যায় না। ওই এলাকাটিকে নিরাপদ মনে করে বলেই প্রতিবছর ওরা আসে।

ওই বাড়ির আতিকুর রহমান মিলন বলেন, ‘পাখিগুলো দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করলেও কারো কোনো ক্ষতি করে না। বরং জমির পোকামাকড় খেয়ে আমাদের উপকার করছে।’

 



সাতদিনের সেরা