kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ

গতি ফেরাতে ঢেলে সাজানোর ছক

► অক্টোবরের প্রথম দিকে তৃণমূলের সম্মেলন শুরু ঘোষণা রবিবারের বর্ধিত সভায়
► নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গতি ফেরাতে ঢেলে সাজানোর ছক

চট্টগ্রামে সংগঠনের গতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগের মহানগর থেকে তৃণমূলের সব কমিটির সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে কেন্দ্রীয় নেতাদের এ নির্দেশনার বাস্তবায়ন আগামী অক্টোবরের প্রথম দিকেই শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের সম্মেলনের পর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করার কথা রয়েছে। এসব সম্মেলন ঘিরে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আসন্ন এসব কমিটির সম্মেলন ঘিরে এখন তৃণমূলের প্রতিটি সাংগঠনিক সভায় প্রায় নেতার দেখা মিলছে। তৃণমূলের পাশাপাশি নগর কমিটির সভাগুলোতেও উপস্থিতি আগের চেয়ে বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধে জড়িয়ে পড়া নগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকেও সর্বশেষ কয়েকটি সভায় থাকতে দেখা গেছে। সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে নগর আওয়ামী লীগে বিভক্তি থাকলেও কমিটির সভাগুলোতে সবাই থাকছেন।  

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর আওয়ামী লীগের আওতায় সাংগঠনিক সব ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন ৭ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী রবিবার নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের সূচি ঘোষণা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোতে এবার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে। সেই লক্ষ্যে চলছে প্রস্তুতি। পদপ্রত্যাশীদের অনেকেই নগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যৈষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর জন্য এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি করার বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শুরু করেছি। বর্ধিত সভা থেকে আগামী সপ্তাহ দুয়েক সময় দিয়ে এ কার্যক্রম আমরা শেষ করতে পারব। এরপর তৃণমূলের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন শুরু করা হবে। অক্টোবরের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃণমূলের সম্মেলন শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব কমিটির সম্মেলনের পর দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী যখনই নির্দেশনা দেবেন, তখনই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নবীন-প্রবীণে নতুন নেতৃত্ব শক্তিশালী হবে। সুবিধাভোগী, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত কেউ যাতে সাধারণ সদস্যও হতে না পারে সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক বলেন, এরই মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটি ও সভাপতি-সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব ইউনিট ও ওয়ার্ডে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্ষক্রম শেষ হয়েছে, সেখানে সম্মেলন প্রথমে হবে। একই দিন একাধিক ইউনিটে সম্মেলন হবে। এ লক্ষ্যে তৃণমূলের নেতাদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নগর আওয়ামী লীগের আওতায় সাংগঠনিক ৪৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউনিট আছে তিনটি। সে হিসাবে ১২৯টি ইউনিট, ৪৩টি ওয়ার্ড ও ১৫টি সাংগঠনিক থানা রয়েছে।

নেতারা জানান, এসব কমিটির বেশির ভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় বেশির ভাগ চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এর মধ্যে বেশির ভাগ কমিটির সম্মেলন হয়েছে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন জোড়াতালি দিয়ে চলায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে নগর আওয়ামী লীগ কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের কমিটিগুলোর সম্মেলনের উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন কারণে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। অবশেষে আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের কমিটিগুলোর সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের মার্চে ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী সাংগঠনিক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। সম্মেলনের পর তিন বছরের এ কমিটি ২৪ বছর পার করেছে। ২০০৪ সালে কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। কমিটির মেয়াদ তিন বছর থাকলেও ১৪ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ। এ ছাড়া বাগমনিরাম, এনায়েতবাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ, আন্দরকিল্লা, পাথরঘাটা, জামালখান ও বক্সিরহাট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে। শুধু এসব ওয়ার্ড ও থানা কমিটিই নয়, বেশির ভাগ সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও থানা কমিটির দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না সম্মেলন। তৃণমূলের এই কমিটিগুলোর সম্মেলন শেষ কবে হয়েছে তা অনেকে মনেই করতে পারছেন না।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়া হয়েছিল। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে কেন্দ্র থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন বছরের এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর আগে।



সাতদিনের সেরা