kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বসুন্ধরা সিটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অগ্নিনির্বাপণ মহড়া বসুন্ধরা সিটিতে

বসুন্ধরা সিটির আটতলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের দক্ষতায় অতি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ভেতরে আটকে পড়া নারী, শিশুসহ ব্যবসায়ী, ক্রেতাদের একে একে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়। রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দেশের সেরা গ্রাহকপ্রিয় শপিং মল বসুন্ধরা সিটিতে গতকাল মঙ্গলবার অগ্নিনির্বাপণ ও প্রতিরোধ মহড়ার চিত্র এটি। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এর আয়োজন করে। সেখানে প্রতীকী অর্থে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনার সফলতা তুলে ধরা হয়।

বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (বিসিডিএল) ফায়ার অ্যান্ড সেফটি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যান্ত্রিক, সিভিল এবং কেয়ার অ্যান্ড ক্লিন ডিপার্টমেন্টের কর্মীরাসহ ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক সদস্য মহড়ায় অংশ নেন। অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধের পদক্ষেপের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজন অন্যান্য বহুতল ভবনেও আবশ্যিক অগ্নিনির্বাপণ মহড়া আয়োজনে উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করেন। বসুন্ধরা সিটিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু প্রতীকী অর্থে নয়, বাস্তবেও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ এই শপিং কমপ্লেক্স। যেকোনো পরিস্থিতিতে সেখানে আগুন লাগলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।

বিসিডিএলের পক্ষে মহড়ায় নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন (অব.) ফাহিম আহমেদ খান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফায়ার অ্যান্ড সেফটি শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবির। আরো উপস্থিত ছিলেন বিসিডিএলের ইনচার্জ মেজর (অব.) মো. মোহসিনুল করিম ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাদ তানভীর, বিসিডিএলের নির্বাহী পরিচালক (মেকানিক্যাল) মাহবুব মোর্শেদ খানসহ অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মহড়া শেষে ফায়ার সার্ভিস দলের নেতৃত্বদানকারী উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশার বসুন্ধরা সিটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই স্থাপনার অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায়। সম্প্রতি বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমরা দেখেছি। সেসব স্থাপনার তুলনায় এখানকার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা খুবই ভালো। এখানকার কর্মীরাও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।’ সচেতনতা তৈরি করে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

বিসিডিএলের ইনচার্জ মেজর (অব.) মোহসিনুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও পুরো স্থাপনা নিরাপদ। যাঁরা এখানে আসেন, দর্শনার্থী, ক্রেতা বা ব্যবসায়ী, তাঁরা সবাই এখানে নিরাপদ।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কখনো অগ্নিকাণ্ড ঘটবে না, এটা কখনোই বলা যায় না। তবে আগুন লাগলেও দ্রুততম সময়ে ‘রেসকিউ অপারেশন’ শুরু করে সবাইকে বের করে আনা সম্ভব। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আমাদের ‘ইলেকট্রিক্যাল’ প্যানেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। এখানকার জরুরি সাইনগুলো আইপিএসে চলে, ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলেও সেগুলো সচল থেকে জ্বলবে। ফলে মানুষ সেগুলো দেখে শপিং মল থেকে বের হয়ে যাবেন। আগুন নেভাতে এক লাখ গ্যালন পানি রিজার্ভ আছে। প্রয়োজন হলে নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ দেওয়া যাবে। আমাদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ টিমে দুজন কর্মকর্তাসহ ৫৭ জন সদস্য রয়েছে।”

বিসিডিএলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন (অব.) ফাহিম আহমেদ খান বলেন, ‘ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ পাওয়া কর্মীদের আলাদা একটি দল আছে এখানে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স থেকে তাঁরা প্রশিক্ষণ পাওয়া। আবার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও অন্য কর্মচারীদের অগ্নি নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ দেন এই কর্মীরা। ফলে মাইক্রো লেভেলে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে, তাঁরাই নিভিয়ে ফেলতে পারবেন।’

প্রতি শিফটে ৩১ জন করে ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিয়োজিত থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, তিন ধরনের পাম্প রয়েছে। দোকানের আকারভেদে প্রতিটি দোকানে কমপক্ষে দুটি করে ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে একবার এবং প্রতি মাসে একবার ফায়ার ড্রিল করা হয়।

 



সাতদিনের সেরা