kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

পাকিস্তানের ‘ঘুম হারাম’ করতে পারে তালেবান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাকিস্তানের ‘ঘুম হারাম’ করতে পারে তালেবান

২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বলেছিলেন, ‘সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু এখন আল-কায়েদার হাত থেকে তালেবানের হাতে চলে গেছে। আর আল-কায়েদার চেয়ে তালেবান আরো বেশি বিপজ্জনক। কারণ তারা স্থানীয় লোকজনের মনের মধ্যেও বাসা বাঁধতে শুরু করেছে।’

আজ ১৫ বছর পর পারভেজ মোশাররফের সেই উপলব্ধি আরো বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠলেও পাকিস্তান সরকার বিষয়টি কখনোই আমলে নেয়নি। সচেতনভাবেই হোক কিংবা দূরদর্শিতার অভাবেই হোক, তারা এখনো তালেবানকে শত্রু ভাবতে শেখেনি। এ কারণে তালেবান যোদ্ধারা গত মাসে যখন রাজধানী কাবুল দখল করে নেন, তখন তাঁদের পতাকা ওড়ে ইসলামাবাদের আকাশেও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবানের বিজয়কে নিজেদের বিজয় ভেবে পাকিস্তান সবচেয়ে বড় ভুলটা করছে। পাকিস্তান এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে তালেবানের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে তারা নিজেদের বিপক্ষেই দাঁড়িয়ে গেছে। পাকিস্তানকে দুইভাবে এর মাসুল গুনতে হবে। প্রথমত, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের মাটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে তালেবানের মতো বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন।

আফগানিস্তানে আল-কায়েদা ও তালেবানবিরোধী দুই দশকের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হিসেবে পাকিস্তানও ছিল। এই অভিযানে অংশগ্রহণের বিনিময়ে ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা নিয়েছে তারা। যদিও ওয়াশিংটন স্বীকার করেছে যে এই সহায়তার বেশির ভাগ অর্থের হিসাবই পাকিস্তান দিতে পারেনি। পাকিস্তানি গোয়েন্দারা অনেক সময় যে তালেবানের হয়ে কাজ করেছেন, সে প্রমাণও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আছে। এ ছাড়া ২০ বছর ধরে পাকিস্তান সরকার তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিজেদের মাটিতেই আশ্রয় দিয়েছিল। পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী নীতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রও অবগত ছিল। কিন্তু কয়েকটি কারণে তারা সেগুলো জেনেও না জানার ভান করে থাকে। প্রথমত, আফগান অভিযানে পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে তাদের প্রয়োজন ছিল। দ্বিতীয়ত, আফগানিস্তানে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের বিভিন্ন বন্দর ও বিমান ঘাঁটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো উপায় ছিল না। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। ফলে এটা নিশ্চিত যে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর পাকিস্তানকে আগের মতো ছাড় দেবে না। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি তুলেছেন।

পাকিস্তান কখনোই আফগানিস্তানে এমন কোনো গণতান্ত্রিক সরকার চায়নি, যাদের তারা নিজেদের কবজায় রাখতে পারবে না। তারা সব সময় চেয়েছে, আফগানিস্তানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করুক, যাতে করে সেখানে তাদের কর্তৃত্ব থাকে। পাকিস্তানের বদ্ধমূল ধারণা হলো, আফগানিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রণ না থাকা মানেই ভারতের নিয়ন্ত্রণ থাকা। ইসলামাবাদের বিশ্বাস, সেখানে ভারত কর্তৃত্ব পেয়ে গেলে পাকিস্তানে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। বিশেষ করে ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’র মতো সংগঠনগুলোকে ভারত নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে।

বুশ ও ওবামা প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ-এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ব্রুসে রিয়েডেল। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর আফগানিস্তানের গণতান্ত্রিক সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বারাক ওবামা ভারতকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ বিষয়টি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভালোভাবে নেয়নি। তারা বিষয়টিকে পাকিস্তানবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে নিয়েছিল।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানে আঞ্চলিক অনেক সংগঠন রয়েছে, যেগুলো মতাদর্শের জায়গা থেকে তালেবানের মতোই। তালেবানের বিজয়ে এসব সংগঠন আগের চেয়ে সক্রিয় হয়ে উঠবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব সংগঠন তালেবানের মতো পুরো পাকিস্তানকে হয়তো অস্থিতিশীল করতে পারবে না, তবে নিরাপত্তা নিয়ে ইসলামাবাদকে অবশ্যই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাইরের কোনো শক্তির সহযোগিতাও মিলবে না, যেটা কি না ভারতকে মোকাবেলার ক্ষেত্রে চীন-রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া যায়। সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস, অস্ট্রেলিয়ান জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স।

 



সাতদিনের সেরা