kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

কোম্পানীগঞ্জে সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কোম্পানীগঞ্জে সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত সন্ত্রাসী শহিদ উল্যাহ রাসেল ওরফে কেচ্ছা রাসেলকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি বন্দুক ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম শাহিন চৌধুরীকে (৪২) আটক করেছে ডিবি পুলিশ। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের লোহারপুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে রাসেলকে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। রাসেল বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া গ্রামের শফি উল্যাহর ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। একই রাতে গ্রেপ্তার হওয়া শাহিন চেয়ারম্যান কাদের মির্জাবিরোধী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে তিনটি ও ডিজিটাল আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

জানা যায়, কেচ্ছা রাসেলের বিরুদ্ধে ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অস্ত্রসহ বিভিন্ন ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় ২৩টি মামলা রয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কোম্পানীগঞ্জে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিশীলতার মধ্যে রাসেলের নাম নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. নূর নবী চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, স্বেছাসেবক লীগ নেতা শাহ জাহান সাজু, ছাত্রলীগ নেতা করিম উল্যাহ শাকিল, সাংবাদিক সুভাষ চন্দসহ অন্তত ২০ জনকে গুলি করে, পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ মে বসুরহাট পৌরসভার করালিয়া এলাকায় মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের গুলি করতে গেলে সিসিটিভি ক্যামেরায় সেই চিত্র ধরা পড়ে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, গ্রেপ্তারকৃত কেচ্ছা রাসেলের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও বিস্ফোরক আইনে ১৫টি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি, ডাকাতি দস্যুতার তিনটি এবং চুরির একটিসহ মোট ২৩টি মামলা রয়েছে। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাঁকে আটক করতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহকামুল হাসান, নোয়াখালী ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের লোহারপোল এলাকা থেকে রাসেল গ্রেপ্তার হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা পলিথিন ব্যাগ থেকে একটি এলজি, একটি পাইপগান ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাসেলের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হবে।



সাতদিনের সেরা