kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

‘পাপের সাম্রাজ্য’ এইচজিসি নিষিদ্ধ

► মিয়ানমারে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নির্মূলে অর্থ দিয়েছিল এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী : যুক্তরাজ্য
► নিউ ইয়র্কে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে হত্যায় অর্থায়নেও সম্পৃক্ততা

মেহেদী হাসান   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘পাপের সাম্রাজ্য’ এইচজিসি নিষিদ্ধ

এ যেন পাপের সাম্রাজ্য। বছরের পর বছর ধরে তারা মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী সামরিক জান্তার দোসর। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযানে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীকে অর্থ জোগান দিয়েছিল ওই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। চীন, রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে তারা মধ্যস্থতাকারী।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে মিয়ানমারের সু চি সরকার নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে হত্যাচেষ্টায় অর্থদাতা হিসেবে নাম এসেছে তাদের। অবশেষে সেই কুখ্যাত ‘টু গ্রুপ অব কম্পানিজও (এইচজিসি)’ নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। ব্রিটিশ সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার এইচজিসি চেয়ারম্যান তে জা ও তাঁর পুরো সাম্রাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। জানা গেছে, যুক্তরাজ্য এককভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না। জি-৭ পররাষ্ট্র ও উন্নয়ন মন্ত্রীদের বৈঠকে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর বলেছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার শীর্ষ ব্যবসায়ী সহযোগী হিসেবে তে জা ও তাঁর পুরো সাম্রাজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তে জার সঙ্গে মিয়ানমারের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ জেনারেলদের সখ্য আছে। তিনি ও তাঁর ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মিয়ানমার জান্তার অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্রের জোগানদাতা।

এগুলো মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাজ্যে তে জা ও এইচজিসির সব সম্পদ স্থগিত থাকবে। ওই ব্যবসায়ী টাইকুন যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও কেউ অর্থ বা তহবিল সরবরাহ করতে পারবে না।

জানা গেছে, মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ ঠেকাতে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসর ওপর খড়্গ আরোপ করা হয়েছে।

গত মাসের শুরুর দিকে এইচজিসি চেয়ারম্যান তে জার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসে। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা জাতিসংঘে সু চির সরকার নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কিয়াও মো তুনকে সরাতে পারছিল না। আগস্টের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ওই রাষ্ট্রদূতকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা যায়, তাদের ভাড়া করেছিলেন থাইল্যান্ডের একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। তাঁর সঙ্গে যোগসাজশ আছে এইচজিসি চেয়ারম্যান তে জার। তাঁরও বিলাসবহুল বাড়ি আছে থাইল্যান্ডে। ওই ব্যবসায়ীরা কম্বোডিয়ায় ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত।

রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযানসহ জেনোসাইডের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা কয়েক বছর আগেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া আর্থিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছিলেন। সেই সুপারিশ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদেও গৃহীত হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এবার অন্যতম সর্ববৃহৎ একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের ওই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এভিয়েশন, নির্মাণ, উন্নয়ন, কৃষি, পরিবহন, জাহাজ চলাচল, খনিজ সম্পদ উত্তোলন, হোটেল ও পর্যটন খাতে সম্পৃক্ত। তাদের প্রতিষ্ঠান টু ট্রেডিং কম্পানি মিয়ানমারের শীর্ষ বেসরকারি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের বার্ষিক আয় অন্তত ছয় কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১১ সালে ওই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৪০ হাজার কর্মী কাজ করতেন। গত এক দশকে এ সংখ্যা আরো অনেক বেড়েছে।



সাতদিনের সেরা