kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

গত বছরের লকডাউন নিয়ে বিআইজিডির জরিপ

সাহায্য পায়নি নিম্ন আয়ের ৬০% মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাহায্য পায়নি নিম্ন আয়ের ৬০% মানুষ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় গত বছর জারি করা কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনে ৬০ শতাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো রকমের সাহায্য পায়নি। লকডাউনের প্রভাবে তাঁদের আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ওই বছরে এপ্রিল ও জুন মাসের মধ্যে ৩৯ শতাংশ পরিবার সহায়তা পেয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অ্যাকাউন্টিং রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশ করা জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে একটি ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

বিআইজিডির জরিপটি করা হয়েছে গত বছরের ২০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত। এই জরিপের প্রতিবেদনটি বিআইজিডির ফ্ল্যাগশিপ রিপোর্ট ‘স্টেট অব গভর্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ ২০২০-২০২১’ নামে প্রকাশ করা হয়।

জরিপ প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিক-সমাজতাত্ত্বিক নওমি হোসেন, বিআইজিডি হেড অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল ক্লাস্টার ড. মির্জা হাসান প্রমুখ।

তাঁদের আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নড়বড়ে। করোনা মহামারির কারণে ‘জীবন বনাম জীবিকা’ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। গত বছর লকডাউন তুলে দেওয়ার ছয় মাস পরও নিম্ন আয়ের কর্মজীবীরা আর্থিক দিক থেকে আগের অবস্থানে ফিরতে পারেননি। এ ছাড়া এ সময়ে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে মাত্র পাঁচটি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের জন্য ভেন্টিলেটর ছিল মাত্র দুুই হাজার ২৬৭টি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপকরণ (পিপিই) ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপরকণের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় ছিল খুবই কম এবং এসব উপকরণ কেনার ক্ষেত্রেও ছিল ঢিলেমি।

এ ছাড়া অতিমারির সময়ে বর্তমান সরকারের ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে আসে জরিপ প্রতিবেদনে। করোনার সময় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে একটি সমীক্ষা করা হয়েছে। জনগণ সরকারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। তবে লকডাউনে সব রকমের ব্যবস্থাপনা, করোনা পরীক্ষা ও ত্রাণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনগণের অসন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে।

গত বছর মার্চ-জুলাই মাসে যখন আক্রান্তের হার ঊর্ধ্বমুখী, তখন করোনা মোকাবেলার সর্বোচ্চ কমিটি মাত্র তিনবার সভা করে। এতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। এ ছাড়া করোনা পরীক্ষার হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম।

করোনার সময় সরকারের শাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা, দুর্বলতা এবং এ ধরনের দুর্যোগ কিংবা মহামারিতে কিভাবে ভবিষ্যতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। আলোচকরা বলেছেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শাসনব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব। সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ৌশলে পৌঁছাতে চায়। এই প্রবৃদ্ধি সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টা সরকার ঘোষিত প্রণোদনায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বৃহৎ, মাঝারি ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। সে তুলনায় আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও কর্ম নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ ছিল ১ শতাংশের কম। রপ্তানিকারক, তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক ও তাঁদের সংগঠনগুলো প্রভাব খাটিয়ে প্রণোদনার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরব ছিল। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল শ্রমিক ইউনিয়ন, তৃণমূলের জনগণ ও তাদের সংগঠনগুলো সেভাবে সরব হতে পারেনি। এ ব্যাপারটিও প্রণোদনা নীতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। ত্রাণ বা সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কারণে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ত্রাণ যাদের প্রয়োজন ছিল, তাদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছেনি।

বিআইজিডির জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশির ভাগই মনে করেন যে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় কিছু না কিছু দুর্নীতি অবশ্যই হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সঠিকভাবে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এতে অনেকেই অর্থ উপার্জনের জন্য বাইরে গেছেন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।



সাতদিনের সেরা