kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

কক্সবাজারে পাহাড়ধস

এক পরিবারের পাঁচ শিশুসহ নিহত ৭

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২৯ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক পরিবারের পাঁচ শিশুসহ নিহত ৭

এবার কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসে এক পরিবারের পাঁচ শিশুসহ সাতজন মারা গেছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী ভিলেজারপাড়া এলাকায় পাহাড়ের মাটির নিচে চাপা পড়ে এক পরিবারের পাঁচ ভাই-বোন মারা গেছে। মৃতরা হলো সৈয়দ আলমের ছেলে আব্দুস শুক্কুর (১৬), মো. জুবাইর (১২), আবদুর রহিম (১০) এবং দুই মেয়ে কহিনুর (১৪) ও জয়নব (৮)।

একই রাতে মহেশখালী উপজেলায় দুটি স্থানে পাহাড়ধসে আরো দুজন মারা যায়। তারা হলো উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা এলাকার শতবর্ষী বৃদ্ধ আলী মিয়া এবং ছোট মহেশখালী সিপাহীপাড়ার নুরুচ্ছফা বেগম (১৭)।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়ায় পাহাড়ধসে পাঁচ রোহিঙ্গা এবং সোমবার রাতে টেকনাফে পাহাড়ধসে আরো একজনের মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে টেকনাফের ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী ভিলেজার জমিতে পাহাড়ের নিচু ঢালে সৈয়দ আলমের পরিবারসহ বেশ কয়েকটি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছিল। স্থানীয় লোকজন জানায়, ছয় দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর পরও তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যায়নি। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে সৈয়দ আলমের ঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। আহত অবস্থায় সৈয়দ আলম, তাঁর স্ত্রী ও এক সন্তানকে উদ্ধার করা গেলেও পাঁচ সন্তান মাটিচাপা পড়ে মারা গেছে। ভিলেজারপাড়ায় এখন মাতম চলছে।

খবর পেয়ে গতকাল বুধবার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল আমিন পারভেজ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী এবং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দাফনকাজ সম্পন্নের জন্য এক লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। নিহতদের পরিবারসহ ওই এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ চৌধুরী বলেন, পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে একাধিকবার মাইকিংসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বন বিভাগের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু কয়েকটি পরিবার সাড়া দিলেও বেশির ভাগ পরিবার ঝুঁকি নিয়েই বাস করছিল। অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে একরকম জোর করেই আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও মহেশখালীতে সবচেয়ে বেশি পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে একাধিকবার প্রচারণা চালানো হয়েছে। এর পরও অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আসছে না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে জানান, ভারি বর্ষণের কারণে জেলার ৪১টি ইউনিয়নের ৪১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অর্ধলক্ষাধিক লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টেকনাফে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাহাড়ধসে নিহতদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। এ সময় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১১৫ মিলিমিটার এবং কুতুবদিয়ায় ১২৫ মিলিমিটার।

 



সাতদিনের সেরা