kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’

কৌশিক দে, খুলনা   

২৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’

প্রকল্প হাতে নিলেই টাকা কাঁড়ি কাঁড়ি। তাই এক প্রকল্প শেষ তো আরেক প্রকল্পের খোঁজ—খুলনা উপকূলের মানুষের মুখে সুপেয় পানি তুলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নোনা পানির এই জনপদে বছর বছর চালু করে নিত্যনতুন প্রকল্প। তবে এসব প্রকল্পের বাঁকে বাঁকে অনিয়মের চোরাবালি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ছাপ। প্রকল্প শুরু হয় জমকালো আয়োজনে। তবে চালু হওয়া প্রকল্পগুলোর শেষ পরিণতির খোঁজ রাখে না কেউ। ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’—চেনা এই প্রবাদ বাক্যের মতোই যুগ যুগ ধরে চলছে উপকূলবাসীর সঙ্গে সুপেয় পানি নিয়ে প্রবঞ্চনা। কেউই কখনো জানতে চেষ্টা করে না ধুঁকতে থাকা উপকূলের মানুষের জলকষ্টের গভীরতা।

জেন্ডার-রেসপনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপ্টেশনের (জিসিএ) সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, উপকূলের ৭৩ শতাংশ মানুষ এখনো ব্যবহার করে অনিরাপদ পানি। বছরে ছয় মাস পানিসংকটে থাকে ৫১ শতাংশ মানুষ। মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ নিজস্ব উৎস থেকে পানি ব্যবহার করতে পারছে।

টানা তিন মাসের অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠ জানতে পেরেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার টাকায় এনজিওগুলো উপকূলবাসীকে সুপেয় পানি বিতরণের নানা প্রকল্প হাতে নেয়।

সরকারি অনুমোদনের পর তারা প্রকল্পের প্রযুক্তি বসিয়ে দেয় কারো বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কাজ শেষে এর কয়েকটি বুঝিয়ে দেয় স্থানীয় সরকার বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে; আর বেশির ভাগই গছিয়ে দেয় সুফলভোগীদের ঘাড়ে। নামমাত্র কমিটি করে প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণের ভার দিয়ে আসে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর। এসব আয়োজনের না থাকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা; না থাকে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা। পানি বিক্রির টাকা আর এর-ওর কাছ থেকে চাঁদা তুলে জোড়াতালি দিয়ে চলতে থাকে প্রকল্প। একসময় গতি হারায় প্রযুক্তি। প্রকল্পের সুফলভোগীরা আবার পড়ে জলকষ্টে।

৪০ বছর ধরে চলছে এই চক্কর। গবেষক-বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খুলনার উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সংকট নিরসনের একমাত্র ভরসা প্রাকৃতিক পানির উৎস। এ ক্ষেত্রে বৃষ্টি, পুকুর ও পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) প্রযুক্তিকেই উপযুক্ত মনে করেন সবাই। এ রকম প্রেক্ষাপটে আশির দশক থেকে শুরু হয় সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। ১৬ থেকে ২০টি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) কাজ করে চলেছে এ অঞ্চলে। গেল এক যুগে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি আটটিসহ অর্ধশতাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একাধিক প্রকল্প এখনো চলমান। এনজিওগুলোর প্রকল্পের মধ্যে আরো আছে পৌর এলাকায় ওভারহেড ট্যাংকের মাধ্যমে পাইপলাইনে পানি সরবরাহ, রিভার্স অসমোসিস প্লান্ট, বায়ো স্যান্ড ফিল্টার ইত্যাদি। তবে উপকূলবাসীর অভিযোগ, প্রকৃতিনির্ভর দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প না নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে যে যার মতো করে কাজ করে যাওয়ায় প্রকৃত সুফল মিলছে না।

বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ২০১১ সালের ২৯ মার্চ কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বাঁশখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি পিএসএফ বসায়। এতে দুই হাজার মানুষের পানির সমস্যা কিছুটা হলেও প্রশমন হয়। ২০১৬ সালের ২০ আগস্ট একই স্কুলে দুই হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন করে সংস্থাটি। কিন্তু দুটি প্রযুক্তিই পরবর্তী সময়ে ছন্দ হারায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেজেএস মৌখিকভাবে বাঁশখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছেই পিএসএফটি দেখাশোনার দায়িত্ব দেয়। প্রধান শিক্ষক সরজিৎ রায় ও তাঁর সহকর্মীরা প্রায় ছয় বছর নিজেদের উদ্যোগে পিএসএফটি সচল রেখেছিলেন। এলাকাবাসী সকাল ৬টা থেকে ৯টা ও বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সুপেয় পানি পেত। ২০১৭ সাল থেকে ধীরে ধীরে পিএসএফের পানি শোধনে ব্যবহৃত পাথর, বালু, দেয়াল ও টিউবওয়েল নষ্ট হতে থাকে। পুরোপুরি সচল করতে যে টাকার প্রয়োজন, তা স্কুলের বাজেটে না থাকায় পিএসএফটি কার্যকারিতা হারায়।

প্রধান শিক্ষক সরজিৎ রায় গত ৯ জুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঠিকাদাররা পিএসএফটি বসানোর পর এনজিও কর্মকর্তারা আর খোঁজ নেননি। আমরা বিভিন্ন সময় যন্ত্রপাতি কিনে দিয়ে মেরামত করে চালাই। কেউ কোনো খরচ দিতে চায় না। আমাদেরও সীমাবদ্ধতা থাকে। এভাবেই আস্তে আস্তে এটি নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ এখন স্কুলের পুকুরের পানি পান করছে।’ এই শিক্ষক আরো বলেন, ‘মানুষ সুফল ভোগ করতে চায়, কিন্তু টাকা খরচ করতে চায় না। আবার এনজিওগুলো প্রযুক্তি বসিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে; কোনো তদারকি নেই। এভাবে ভালো উদ্যোগগুলো নষ্ট হয়ে যায়।’

বেসরকারি সংস্থার প্রকল্প বিবরণীর (পিপি) তথ্য অনুযায়ী, একটি পিএসএফ কমপক্ষে চার-পাঁচ বছর সচল থাকার কথা। তবে নিয়মিত সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে ৩০-৪০ বছর ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে ফিল্টারের দেয়াল, সংযোজিত টিউবওয়েল, বালু-পাথর স্তর, পুকুরের পানির উৎস নিশ্চিত করতে হয়।

জেজেএসের সহকারী প্রকল্প সমন্বয়ক নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নীতিমালা অনুযায়ী সুফলভোগীদের কাছে হস্তান্তর করি। কমিটিকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিই। কিন্তু তারা বেশি দিন চালিয়ে রাখতে পারে না। স্থানীয় মতভেদ, অর্থ সংস্থানের অভাব নানা সংকট তৈরি করে। তাই কমিউনিটিভিত্তিক প্রকল্পগুলো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এখন পরিবারভিত্তিক প্রকল্প নিতে হবে। এসব কাজে উপকারভোগীদের স্বত্ব থাকতে হবে। মূল সংকট আসলে সমন্বিত উদ্যোগ না থাকা।’

২০১৪ সালে কয়রার তিনটি ইউনিয়নে সাড়ে ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দাতা সংস্থা ওয়াটার এইড ও বিগ লটারি ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা রূপান্তর অ্যাডাপ্টিং ওয়াশ ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। দুই বছরের প্রকল্পের অধীনে তারা পরীক্ষামূলকভাবে একটি ভ্রাম্যমাণ ডি স্যালাইনেশন অর্থাৎ পানির লবণাক্ততা দূরীকরণ প্লান্ট স্থাপন করে। বাগালী ইউপি চত্বরে একটি ট্রলির ওপর প্লান্টটি বসানো হয়। এটি থেকে পানি শোধনের পর আরেকটি গাড়ির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গ্রাহকপ্রতি পাঁচ টাকার বিনিময়ে ১৫ লিটার করে পানি বিতরণ করত। চীনের তৈরি এ মেশিনটি (ফিল্টার ও পানি শোধনের উপকরণ ছাড়া) কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ বছর নিরবচ্ছিন্ন সচল থাকবে বলে প্রকল্প বিবরণীতে বলা হয়েছিল। তবে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হলে প্লান্টটি ১০-১২ বছর সচল থাকার কথা। কিন্তু তিন বছরের মাথায় এটি নষ্ট হয়ে যায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের মার্চে প্লান্টটি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিউল্লাহর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকে প্লান্টটির রক্ষণাবেক্ষণ, পানি তোলা ও বিতরণের পুরো দায়িত্ব বুঝে নেয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)।

২৮ এপ্রিল ওই এলাকায় গিয়ে প্লান্টটির কার্যকারিতা আর চোখে পড়েনি। মেশিন, গাড়ি বাগালী ইউপিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সম্রাট হোসেন (৩২) বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ পানি সরবরাহে অনেক মানুষের উপকার হয়েছে। চার বছর ধরে আমরা আর এভাবে পানি পাচ্ছি না।’ তাঁর মতে, মানুষের কথা চিন্তা করে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল।

প্রকল্পের তৎকালীন ব্যবস্থাপক রাবেয়া বশরী বলেন, ‘আমরা নিজস্ব খরচ ও ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি দুই বছর চালিয়েছি। হস্তান্তরের পর এটি আর আমাদের তদারকিতে থাকেনি।’

বাগালী ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘আমার দায়িত্বকালে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্লান্টটি ভালো ছিল। ইউপির তহবিল থেকে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালানো হতো। ভ্রাম্যমাণ গাড়িটির সমস্যা দেখা দেওয়ায় শ্যালো মেশিনচালিত ভ্যানে করেও পানি বিতরণ করেছি। পরে কী হয়েছে বলতে পারব না।’

এদিকে বাগালীর বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার ৩০ মে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই প্লান্টটি আমি অকেজো অবস্থায় পাই। এর সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে, সংস্কারও সম্ভব নয়। এটি এখন ইউপি চত্বর থেকে সরাতে চাই।’

রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী আমরা কাজ শেষে প্রকল্পটি স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করি। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদি হতে পারত। কিন্তু কেউই ঠিকমতো কাজ করে না। স্থানীয় সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি; সরকারি কর্মকর্তারাও স্থায়ী নন; তাই তাঁরা দ্রুত সংকট নিরসন চান। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ফের সংকট শুরু হয়।’

২০১৮ সালে দাকোপের তিলডাঙ্গার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বটবুনিয়ায় পিএসএফ স্থাপন করে দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর সরদারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি এটি দেখাশোনা করত। ২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে পিএসএফটির পানির উৎস পুকুরটি নষ্ট হয়ে যায়। আম্ফান-পরবর্তী প্রকল্পের আওতায় ডিএসকে একই বছর অক্টোবরে পিএসএফটি সংস্কার করে। একই সময়ে সংস্থাটি ৯ বছর আগে কামারখোলার প্রফুল্লের বাড়ি ও প্রশান্ত মন্ডলের বাড়িতে নির্মিত পিএসএফও মেরামত করে।  গত ৫ মে বটবুনিয়ার মুজিবুর সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আম্ফানে পুকুরে লবণ পানি ঢুকে যাওয়ায় আমরা আর সংস্কার করতে পারিনি। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের হলেও অনেকে ঠিকমতো টাকা-পয়সা দিতে চায় না।’

কামারখোলার প্রশান্ত মন্ডল বলেন, ‘আমার বাড়িতে পিএসএফ থাকায় কোনো সমস্যা হলে আমাকেই দেখতে হয়। ছোটখাটো সমস্যা ঠিক করা গেলেও প্রয়োজনে কেউ বেশি টাকা দিতে চায় না। তবে এখন আমরা প্রতি মাসে কমিটির সভা করি। জরুরি সংস্কারের জন্য তহবিল রাখছি। পিএসএফটি আগের মতো আর বন্ধ হবে না।’

ডিএসকের প্রকল্প সমন্বয়কারী সনজিৎ কুমার সরকার বলেন, ‘কোনো প্রকল্প শেষ হওয়ার পরে এনজিওর আর তদারকি করার সুযোগ নেই। সুফলভোগীরা দায়িত্বশীল হলে একেকটি পিএসএফ দীর্ঘদিন সচল রাখা সম্ভব।’

অভিন্ন চিত্র মিলেছে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলাতেও। জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ৫ নম্বর কয়রায় খালেক সরদারের বাড়ি, আমাদি সাহাপাড়া, কয়রা সদরের মুজিবুর রহমানের বাড়ি, পাইকগাছার কপিলমুনির কাজেম গাজীর বাড়ি, রাড়ুলির আফদার গাজীর বাড়িসহ পরিত্যক্ত ২৬টি পিএসএফ ২০১৯ সালে সংস্কারের মাধ্যমে নতুন করে চালু করে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব রুরাল পোর (ডর্প)। আইলা-পরবর্তী সময়ে এসব পিএসএফ বসানো হয়। তবে কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কাদের অর্থায়নে এগুলো নির্মাণ করেছিল, তা জানা যায়নি।

সংস্থাটির উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘নষ্ট হওয়া পানির উৎসগুলো কারা কবে করেছিল, সে তথ্য আমরাও পাইনি। তবু জরুরি ২৬টি পিএসএফ ফের চালু করেছি। আমরা সেগুলো স্ট্যাম্পে শর্ত ও নীতিমালা দিয়ে সুফলভোগী কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদকে ট্যাগ করেছি। আগে তারা এ কাজে অবহেলা করলেও এখন পারছে না। তাই এগুলো দীর্ঘদিন ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়।’

 



সাতদিনের সেরা