kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

রাজধানীর কোরবানির হাট

জমজমাট পশু বেচাকেনা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

কোরবানির মাংস বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ডিএনসিসির উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া

শম্পা বিশ্বাস   

২০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জমজমাট পশু বেচাকেনা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

অনলাইনে আবেদন করলেই পশু কোরবানি করে সেই পশুর মাংস ফ্রিজার ভ্যানে পৌঁছে যাবে বাসায়। খরচও কম আবার ঝামেলাও নেই। বাঁচে সময় এবং শ্রম। আর এ কারণেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এই উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এদিকে কোরবানির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সরব হয়ে উঠছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। শেষ সময়ে এসে বেড়েছে হাটের বেচাকেনা। হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই যেন নেই।

গত বছর প্রথমবারের মতো ডিএনসিসি কোরবানির মাংস বাসায় পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ শুরু করে। প্রথম বছরে এতে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ৪০০টি। তবে এ বছর সেই আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ শতাধিক। ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটের অনলাইনে ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত এই আবেদন জমা পড়েছে, যদিও এক হাজার পর্যন্ত আবেদন পূরণ করার সক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির। ডিএনসিসি বলছে, ধীরে ধীরে বাসায় মাংসের ডেলিভারির এই ব্যবস্থাটি জনপ্রিয় করতে কাজ করে যাচ্ছে তারা। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের বাসায় মাংস পৌঁছে দেওয়ার ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকবে এবং জটলা এড়ানো সম্ভব হবে।

বাসায় কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডেলিভারি চার্জ প্রতি কেজি গরুর মাংসে ২৫ টাকা এবং খাসির মাংস প্রতি কেজিতে ৮৫ টাকা করে নেয় ডিএনসিসি। মাংস পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২৫টি ফ্রিজার ভ্যান রয়েছে সংস্থাটির। বাসায় মাংস পাওয়ার জন্য আবেদনের সময়সীমা ছিল ১২ জুলাই পর্যন্ত, এর পরে মাংস পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন কোনো আবেদন জমা নেয়নি ডিএনসিসি।

মাংসের হোম ডেলিভারি সম্পর্কে ডিজিটাল হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারও আমরা জবাইখানার জন্য জায়গা ঠিক করেছি। সেখানে প্রায় এক হাজার গরু কোরবানি দেওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করেছি। কেউ ডিএনসিসির ডিজিটাল হাট থেকে গরু কিনে বুকিং দিলেই আমরা

জবাই দিয়ে তাদের বাসায় মাংস পৌঁছে দেব।’ এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাংসটা প্রক্রিয়াজাত করে আমরা বাসায় পৌঁছে দেব। বসিলার একটা জবাইখানায় আমরা এই কাজটা করব। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আমরা এই আয়োজন করছি। কারণ আমরা দেখেছি মানুষের কাছে দিন দিন এই উদ্যোগটা জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।’

এদিকে যত দিন গড়াচ্ছে, ততই জমজমাট হচ্ছে রাজধানীর পশুর হাটগুলোর বেচাকেনা। গতকাল ডিএনসিসি এলাকার ভাটারা-সাঈদনগর পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ মানুষই শেষ সময়ে এসেছে পশু কিনতে। কেউ দরদাম করছে, কেউ বা আবার পশু কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এই হাট থেকে দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছেন বাড্ডার বাসিন্দা রহমত আলী। তিনি বলেন, ‘আমি দুই দিন ধরে দুই হাট ঘুরে অবশেষে আজ গরু কিনলাম। হাটে লোকজন মেলা, দেখে মনে হলো বিক্রিও ভালো।’

কুষ্টিয়ার গরু বিক্রেতা হাসানও সায় দিলেন রহমত আলীর কথায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সাতজন মিলে ২১টা গরু নিয়া এই হাটে আসছিলাম। ১৯টা বিক্রি হইয়া গেছে। তবে গত তিন দিনের মতো গতকালও হাটে স্বাস্থ্যবিধি ছিল চরমভাবে উপেক্ষিত।’

ভাটারা সাঈদনগর হাটে গতকাল দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, জীবাণুনাশক টানেল আছে। কিন্তু কেউ তা ব্যবহার করছিলেন না। মাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক পরার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল। টাঙানো ছিল ডিএনসিসির ব্যানার, কিন্তু বেশির ভাগ বিক্রেতার মুখেই মাস্ক ছিল না। বাজারে ঢোকা বা বের হওয়ার সময় কাউকেই হাত স্যানিটাইজ করতে দেখা যায়নি।

এ সময় ক্রেতাদের কাউকে কাউকে মাস্ক পরা নিয়ে অন্যদের সচেতন করতে দেখা যায়। বিক্রির অবস্থা আগের দুই দিনের চেয়ে ভালো বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাঁরা আরো জানান, সকালের দিকে ক্রেতা না থাকলেও বিকেল থেকে বিক্রি বেড়েছে।

এদিকে গাবতলী হাটও পুরোপুরি জমে উঠেছে। যানজটের কারণে গরু নিয়ে ফেরার সময়ও অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছে। গাবতলীসহ অন্য হাটগুলোতে গতকাল ছাগলের বাজার মন্দা চলছে। গাবতলীতে উট ও দুম্বাও উঠেছে। গাবতলী হাটে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ইজারাদারকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ডিএনসিসি।



সাতদিনের সেরা