kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আমৃত্যু উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন মানে দাঁড়াবে ৩০ বছর কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমৃত্যু উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন মানে দাঁড়াবে ৩০ বছর কারাদণ্ড

স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাস—এ কথা উল্লেখ না থাকলে যাবজ্জীবন সাজার অর্থ দাঁড়াবে ৩০ বছরের কারাদণ্ড। এই ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১২০ পৃষ্ঠার এই রায় সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়। রায়ে প্রধান বিচারপতিসহ ছয়জন বিচারপতি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের পক্ষে একমত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তিনি বলেছেন, যাবজ্জীবন সাজা অর্থ আমৃত্যু কারাদণ্ড।

রায়ে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বলতে প্রাথমিকভাবে বাকি জীবন কারাবাস বোঝায় স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাস। তবে দণ্ডবিধির ৪৫, ৫৩, ৫৫ ও ৫৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারা একসঙ্গে মিলিয়ে পড়লে এটা স্পষ্ট যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ ৩০ বছর কারাদণ্ড। রায়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাবাস উল্লেখ করেন, তবে সে ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ৩৫ক ধারার রেয়াতের সুবিধা পাবেন না।

এই রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, এই রায়ের ফলে যাঁরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হবেন অর্থাৎ যাঁদের সাজা ৩০ বছর হবে, তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা এবং কারাবিধি অনুযায়ী রেয়াত সুবিধাও পাবেন।

যে আসামির মামলাকে কেন্দ্র করে এই রায় দেওয়া হয়েছে, সেই আতাউর রহমানের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম (পরে এ এম আমিন উদ্দিন) ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

 



সাতদিনের সেরা