kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাজধানীর কোরবানির হাট

আফতাবনগরে কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

৩০০ ফুটে এখনো সমাগম কম

শম্পা বিশ্বাস ও মোবারক আজাদ   

১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আফতাবনগরে কেউ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

রাজধানীর আফতাবনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় এ বছর সম্মিলিতভাবে কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। গতকাল বৃহস্পতিবার হাটটিতে গিয়ে দেখা যায় সামনে বিশাল ব্যানারে লেখা, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক অনুমোদিত গরু-ছাগলের বিশাল হাট’। হাটটির প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে দেখা গেল গরুবোঝাই একের পর এক ট্রাক হাটে ঢুকছে। এরই মধ্যে হাটটিতে পৌঁছে গেছে হাজারখানেক গরু।

আগামী ১৭ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিক কোরবানির পশুর হাট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকালই আফতাবনগরের পশুর হাটে বিপুল ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে রীতিমতো পা ফেলা যাচ্ছিল না। যদিও এসব ক্রেতা বলছেন, তাঁরা নিতান্তই কোরবানির পশু দেখতে এসেছেন। 

কোরবানির হাটের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২৩টি নির্দেশনা জারি করেছে। গতকাল এসব নির্দেশনার বেশির ভাগ মানতে দেখা যায়নি। হাটে ঘুরে বেড়ানো গরু ব্যবসায়ী আর ক্রেতাসাধারণের প্রায় কারো মুখেই ছিল না মাস্ক। হাটের প্রবেশমুখে বসানো হয়নি জীবাণুনাশক টানেল। হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য পৃথক গেট তৈরির নির্দেশনা থাকলেও গতকাল প্রায় সবাইকে একই গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে। শারীরিক দূরত্বের বালাইও ছিল না। হাটের স্বাস্থ্যবিধিতে উল্লেখ ছিল একটি পশু থেকে আরেকটি পশু এমন দূরত্বে বাঁধতে হবে, যাতে ক্রেতা তিন ফুট দূরে দাঁড়িয়ে পশু কিনতে পারেন। হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তিন ফুট দূরত্ব রেখে লাইনে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও গতকাল এসব বিধি মানতে দেখা যায়নি কাউকে।

হাটে আসা কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এসেছেন যশোর, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা থেকে। কুষ্টিয়া থেকে দুটি গরু নিয়ে এসেছেন আসাদ মিয়া। আরো ৯ জন সঙ্গী মিলে ২১টি গরু নিয়ে আফতারনগর পশুর হাটে এসেছেন তিনি।

আসাদ বলেন, ‘আমাগে কাজই গরু নিয়া। সারা বছর লালন-পালন করে এই সময়ডায় গরু নিয়া ঢাকায় আসি। বিক্রি শেষে বাড়িত যায়া আবার দুডো বাছুর কিনব।’

মাস্কের কথা জিজ্ঞেস করলে সরল উত্তর, ‘হাডের মধ্যে কতক্ষণ এট্টা মাস্ক পইরা থাকন যায়। ময়লা হইয়া যায়। রোজই একটা কইরা মাস্ক কিনতি হলি ক্যামনে হব!’

হাটের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ইজারাদার (উত্তর সিটি অংশের) মাহবুবুর রহমান শিমুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এই হাটটি অনেক বড়। ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে আমরা মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখছি।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাটের স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা আছে। সেখানে আমাদের মনিটরিং টিম আছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।’

এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা রাজধানীর খিলক্ষেত ৩০০ ফুট রাস্তাসংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন। গতকাল হাট ঘুরে দেখা গেছে, দু-চারজন ক্রেতা দরদাম জিজ্ঞেস করছেন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে কোরবানির পশু বেচাকেনা জমে উঠবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অনুমোদিত বিশাল এই পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হলেও গতকাল হাটে উপস্থিত বেশির ভাগ ব্যবসায়ীকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। প্রায় কারো মুখেই দেখা যায়নি মাস্ক। যাঁদের মাস্ক ছিল, তাঁদের বেশির ভাগের মাস্ক থুঁতনি কিংবা গলায় ঝুলছিল। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জটলা বেঁধে অনেককে হাটের এখানে-সেখানে তাস খেলতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কড়াকড়ি শুরু করলে হাটের সবাই বাধ্য হবেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বিক্রি করতে।

গতকাল এই হাট ঘুরে দেখা গেছে, মাইকিং করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং প্রতারণা থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করা হচ্ছে। বিকিকিনি এখনো শুরু না হওয়ায় গরু বেঁধে রাখার তাঁবুর পাশে খড়ের ওপর ঘুমাচ্ছেন কেউ কেউ। কিছুক্ষণ পর পর মূল গেট দিয়ে ট্রাকে করে গরু প্রবেশ করছে হাটে।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তিনটি ট্রাকে করে গত বুধবার ৪৬টি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন খামারি হারুন মিয়াসহ ২০ জন। এখন বিক্রিবাট্টা শুরু হয়নি। আগ্রহীরা দরদাম জিজ্ঞেস করছেন। এক জোড়া গরু দেখিয়ে হারুন বলেন, ‘এই জোড়া গরুর দাম বলেছে সাত লাখ টাকা। সাড়ে আট লাখ হলে ছেড়ে  দেব।’

পাবনা সদর থেকে চারটি গরু নিয়ে এসেছেন আরিফসহ পাঁচজন। এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। জানালেন, ঈদের দু-এক দিন আগে বিক্রি হয়ে যাবে।



সাতদিনের সেরা