kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মালয়েশিয়ায় বৈধ হওয়ার সুযোগন বাড়ল ৬ মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মালয়েশিয়ায় বৈধ হওয়ার সুযোগন বাড়ল ৬ মাস

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ আরো ছয় মাস বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময়সীমা বলবৎ থাকবে। ফলে দেড় লাখ অবৈধ প্রবাসীর সামনে বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হলো। বৈধতার এই সুযোগ নিতে হবে কম্পানির মালিকদের মাধ্যমে।

তবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অনেকে এ সুযোগ নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। সূত্র মতে, আবেদনের পর পাঁচ-ছয় মাস পার হলেও প্রবাসীদের অনেকে এখনো নতুন পাসপোর্ট পাননি। ফলে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁরা বৈধতার এ সুযোগটি নিতে পারছেন না।

অবশ্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর থেকে গেল ৩০ জুন পর্যন্ত পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়েছে এক লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে করোনার ঝুঁকি নিয়েও এক লাখ ৬০ হাজার পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। বাকিগুলোও প্রক্রিয়াধীন। 

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে মালয়েশিয়ায় চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। চলমান লকডাউনে গত ৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অভিবাসন বিভাগের আলাদা চারটি অভিযানে ৯৩৮ জন অবৈধ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। যেখানে ২৭০ জন বাংলাদেশি। কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ অবস্থায় একদিকে কাজ হারানো, অন্যদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটছে প্রবাসীদের।

বৈধ হতে নির্দিষ্ট শর্ত দিয়ে কিছু যোগ্যতা চেয়েছিল দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যাঁরা বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভিসায় উল্লেখিত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন, কিন্তু ভিসা রিনিউ করেননি বা ওভার স্টে হয়েছে, যাঁরা নিজ কম্পানিতে কাজ করেননি এবং যাঁরা নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে গেছেন, তাঁরা এই প্রক্রিয়ায় বৈধ হতে পারবেন। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যাঁরা এমন অনিয়ম করেছেন শুধু তাঁরাই এই সুযোগ পাবেন। এর পরে কেউ এসব অপরাধ করলে তাঁরা এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন না।

জানা গেছে, করোনা মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার জাতীয় ইমিউনাইজেশন প্রগ্রাম বাস্তবায়নে মেয়াদ বাড়ানোর ওই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে মনে করছে উভয় দেশের দায়িত্বশীল সূত্র। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩০ জুন বৈধকরণ কর্মসূচির সময়সীমা ছিল। ওই সময়ের মধ্যে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৮৩ প্রবাসী কর্মী রিক্যালিব্রেশন প্ল্যানের আওতায় এসেছে। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে নিবন্ধনকৃতদের মধ্যে যাঁরা দেশে ফিরতে আগ্রহী তাঁদের জেল-জরিমানা হবে না।

জানা গেছে, গত ১ জুলাই পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৮৯২ জন প্রবাসী শ্রমিক নিজেদের দেশে ফেরার আর্জি জানিয়েছেন। সে হিসাবে এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৯ জন ওয়ার্কফোর্স রিক্যালিব্রেশন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আর্জি জানান।

মালয়েশিয়ার সরকারি তথ্য মতে, বিদেশি কর্মীদের প্রতি সদয় হয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবাহ ও সারাওয়াক রাজ্যে কেন্দ্রের এই কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে আওতা বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চুক্তির ওপর। ‘সোর্স কান্ট্রি’ হিসেবে পরিচিত ১৫ দেশের নাগরিকরা বৈধকরণ কর্মসূচির এই সুযোগ নিচ্ছেন। যাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।

 



সাতদিনের সেরা