kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দেড় হাজার মুখে হাসি

তেঁতুলিয়া-আটোয়ারীতে শুভসংঘের ত্রাণ সহায়তা

জাকারিয়া জামান ও নাজমুল হুদা, তেঁতুলিয়া থেকে   

৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেড় হাজার মুখে হাসি

তেঁতুলিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে ত্রাণ বিতরণে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, এসি ল্যান্ড, তেঁতুলিয়া থানার ওসিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বামী মারা গেছেন। কোলে সাত মাসের ছোট্ট মারিয়া। এই দুধের শিশুকে কারো কাছে রেখে কাজে বের হওয়া মোমেনার জন্য কঠিন। নারী বলে সেভাবে ক্ষেতের কাজও পান না। এর ওপর করোনায় কমেছে শ্রমিকের চাহিদাও। গতকাল শুক্রবার বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে হাসি ফোটে অসহায় এই নারীর মুখে। বলেন, ‘বাহে, এলা হামার স্বামী নাই। হামরা বেটি ছুয়া মানুষ কামকাজ করিবার পাই না। করোনা আসি হামরা এখন পেট ভরে খাবার পাইছি না। আইজ হামরা বসুন্ধরার ত্রাণ পাইনো। এইটা দিয়া হামরা কয়টা দিন কাটাইবার পামো।’

দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার মোমেনার মতো জনপদটির এক হাজার দরিদ্র ও দিন এনে দিন খাওয়া নারী-পুরুষ কালের কণ্ঠ শুভসংঘের খাদ্য সহায়তা পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছে গতকাল। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত লকডাউনের কয়েক দিন তাদের পেটের দায়ে আর ঘরের বাইরে যেতে হবে না বলে জানায় তারা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে তাদের হাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ত্রাণ তুলে দেন শুভসংঘের সদস্যরা। এ ছাড়া আটোয়ারীতে ৫০০ দরিদ্র পরিবারকে দেওয়া হয় ১০ দিন চলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ পেয়ে খুশিঝরা কণ্ঠে কামিনী রায় বলেন, ‘করুনায় (করোনা) কামাই বন্ধ মেলা দিন। মাইনসের দেওয়া ত্রাণের উপর বাঁচে আছি। বসুন্ধরা গ্রুপ হামাক ত্রাণ দিছে। খুব ভালো লাগেছে!’ ত্রাণ সহায়তা পাওয়া এনামুল হক নামের এক বৃদ্ধ জানান, লকডাউনের মধ্যে তো ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। খুব চিন্তায় ছিলেন কিভাবে সংসার চলবে। বসুন্ধরা গ্রুপের এই ত্রাণ পেয়ে তাঁর খুব উপকার হলো।

অডিটরিয়ামে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পর উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের খয়খাটপাড়া নুরানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায়ও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের জন্য বিশেষ দোয়া করে সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

তেঁতুলিয়া উপজেলা অডিটরিয়ামে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, ‘দেশের এই করোনা মহামারির ক্রান্তিলগ্নে বসুন্ধরা গ্রুপ সারা দেশের অসহায় মানুষকে ত্রাণ সহযোগিতা করছে। ঢাকা থেকে দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এসে তারা অসহায়দের ত্রাণ সহযোগিতা করছে। তাই আমি পঞ্চগড়বাসীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ লকডাউনের বিধি-নিষেধসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহাও একই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, করোনার থেকে সুরক্ষার জন্য সরকার সাত দিনের লকডাউন দিয়েছে। এই সময়ে আপনারা কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। কাঁচাবাজারের প্রয়োজন হলে বিকেল ৫টার মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিনে আনবেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য নিজেকে সচেতন থাকতে হবে। কাজেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। এই সাত দিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুল হক, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি আবদুল লতিফ তারিন, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছায়েম মিয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন রঞ্জু।

এর আগে জেলার আটোয়ারী উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আটোয়ারী উপজেলার ধামোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায় ৩০০ জনকে এই ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়। এরপর রাধানগর ইউনিয়নের বিএম কলেজের বারান্দায় আরো দুই শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় ধামোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নজরুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণসামগ্রী দিয়ে আপনারা ১০ দিন খেতে পারবেন। তাই লকডাউনের মধ্যে কেউ বাইরে বের হবেন না। সবাই নিজ বাসায় থাকবেন।’

এদিন বিকেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নেও শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেয় শুভসংঘ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহীন, বাংলাবান্ধা আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের দপ্তর সম্পাদক সোহেল প্রধান মানিক, জাগ্রত তেঁতুলিয়ার সংগঠক অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব সরকার, নাওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক। এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠ’র সহসম্পাদক আতাউর রহমান কাবুল, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি মো. লুত্ফর রহমান, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামিম আল মামুন, সদস্য শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, শুভসংঘ পঞ্চগড় জেলার সভাপতি ফিরোজ আলম রাজীব প্রমুখ।

প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, দুই কেজি আটা ও এক লিটার সয়াবিন তেল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

 



সাতদিনের সেরা