kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

বিটকয়েনের নানা কারবারের হোতাসহ চারজন গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়া, পর্ন ভিডিও কেনাবেচা অর্থপাচার ও ক্রেডিট কার্ড হ্যাকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিটকয়েনের নানা কারবারের হোতাসহ চারজন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা বিটকয়েন কারবার, এই মুদ্রা ব্যবহার করে পর্ন ভিডিও বেচাকেনা, জুয়া খেলা ও অর্থপাচারের একটি চক্রের প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে গতকাল রবিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চক্রের হোতা হামিম প্রিন্স খান (৩২), সদস্য রাহুল সরকার (২১), সঞ্জীব দে ওরফে তিতাস (২৮) ও সোহেল খান (২০)। তাঁদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, হামিম প্রিন্স কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে ৫০ জনকে অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিটকয়েন কেনার প্রশিক্ষণ দেন। এই চক্রের সঙ্গে কয়েক হাজার সদস্য জড়িত, যারা বিটকয়েন ব্যবহার করে অনলাইনে জুয়া খেলাসহ নানা অবৈধ কাজে যুক্ত। প্রতি মাসে তারা দেড় কোটি টাকা বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন করত। তারা বিটকয়েন দিয়ে ডার্কনেটে পর্ন সাইট থেকে পর্ন ডিভিও কিনত। এরপর এসব পর্ন ভিডিও বেশি দামে দেশে বিক্রি করত।

গতকাল দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ব্যাপারে বিস্তারিত জানান বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, সম্প্রতি র‌্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে, অবৈধ বিটকয়েন ব্যবহার করে পর্ন ডিডিও কেনাবেচার কারবার চলছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট থেকে অ্যাকাউন্ট করে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টো কারেন্সি বা বিটকয়েন কেনাবেচা করে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশ কিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে। প্রচার চালিয়ে আগ্রহীদের তারা অবৈধ কারবারে প্রশিক্ষণ দিত। প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই বিনিয়োগ করত চক্রটি।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খান ২০১৩ সালে ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক (সম্মান) পাস করেন। ওই বছরই একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটার কোর্স করে নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে বসেন। ভার্চুয়াল মুদ্রার কারবারে দক্ষতা অর্জন করে তিনি আরো ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেন। বিটকয়েন ছাড়াও তিনি লিটকয়েন, ডগকয়েন, ইথারিয়াম, ব্রাস্ট, ন্যানো ইত্যাদি ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার করে আসছিলেন। তিনি অন্যের ক্রেডিট কার্ড হ্যাক করে বিটকয়েন কেনেন। ভার্চুয়াল জগতে তাঁর ১৫-১৬টি ওয়ালেট রয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, রাহুল সরকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামিম প্রিন্সের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত বছর বিটকয়েন কারবার শুরু করেন তিনি। তাঁর বিনান্স ওয়ালেটসহ বেশ কয়েকটি ওয়ালেট রয়েছে। অন্য গ্রেপ্তারকৃত সঞ্জীব দে ওরফে তিতাস ফরিদপুরের স্থানীয় একটি কলেজে অধ্যয়নরত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামিম প্রিন্সের সঙ্গে পরিচয়ের পর থেকেই প্রলোভন দেখান। পরে তিনি নিজের ‘ক্লোনিক্স ওয়ালেট’ ও ‘বেটলেক্স ওয়ালেট’ নামে অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ লেনদেন করে আসছিলেন। সোহেল খান মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপিং, ওয়েভ ডেভেলপিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের লোভে পড়ে হামিমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিটকয়েনের অবৈধ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন।