kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

ঢাকার বিএনপি নেতাদের ‘নির্বাসিত’ করার পরামর্শ

মহানগরের বাইরের নেতাদের নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে একটি অংশ। তাঁদের অভিযোগ, ঢাকার নেতৃত্ব সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ

শফিক সাফি   

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঢাকার বিএনপি নেতাদের ‘নির্বাসিত’ করার পরামর্শ

এক-এগারোর পটভূমির পর সরকারবিরোধী সব আন্দোলনে ব্যর্থ ঢাকা মহানগর বিএনপি। দলের হাইকমান্ড মহানগর কমিটিকে দুই ভাগ করেও সুফল আনতে পারেনি। এ অবস্থায় ঢাকার নেতাদের ‘ঢাকাছাড়া’ করার পরামর্শ এসেছে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার কাছ থেকে।

স্বাভাবিকভাবেই এতে নাখোশ মহানগরের নেতা ও পদপ্রত্যাশীরা। আর মহানগরের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।

যদিও নির্বাসন বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি হাইকমান্ড। তবে বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্বে কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে গত শনিবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগে।

অবশ্য এ বিষয়ের ইঙ্গিত মেলে সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আলোচনাসভায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে। তিনি সেখানে বলেন, ‘উত্তর মহানগরকে আমি অনুরোধ করতে চাই, শুধু পদ-পদবির জন্য দৌড়াবেন না। কমিটি হয়ে গেলে হারিয়ে যাবেন না।’

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপির পুনর্গঠনের জন্য চাপে আছে হাইকমান্ড। স্থায়ী কমিটির দুই নেতা ও কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষ্য, নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার। গেল পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা হাইকমান্ডকে বলেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ‘পরিবর্তনকামী’ ওই নেতারা হাইকমান্ডকে বোঝাচ্ছেন, বর্তমান কমিটিকে মেয়াদের পরও দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা আন্দোলন-সংগ্রামে সফল হতে পারেনি। এর আগে ঢাকার নেতাদের দিয়ে কমিটি হয়েছে, তাঁরাও ব্যর্থ। এবার ঢাকার বাইরের ও এর আশপাশের নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তাঁরা সব ধরনের বলয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন।

তবে মহানগরের নেতারা বলছেন, তাঁরা এরই মধ্যে সাংগঠনিক কমিটিগুলো করেছেন। দলের পক্ষ থেকে ঘোষিত সব কর্মসূচি পালন করেছেন। আর বড় ধরনের আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক তো এই সময়ে দেওয়া হয়নি, তাই ব্যর্থতার দায় তাঁরা নেবেন না।

সূত্রগুলো বলছে, মহানগর উত্তরের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আর দক্ষিণের নেতৃত্বের জন্য নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের নেতা, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা ও কেরানীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান এবং ফেনী-১ আসন থেকে গত নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনুর কথা বলা হয়েছে।

সূত্র মতে, এই ফরম্যাটে কমিটি দেওয়ার বিষয়টি প্রায় বাস্তবায়নের পথে ছিল। মহানগরের উচ্চ পদে থাকা সাবেক এক ছাত্রনেতার বিরোধিতায় তা হয়নি। তাঁর যুক্তি ছিল, একেবারে ঢাকার নেতাদের কমিটির শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দিলে শক্তিশালী মহানগর গঠন শুধু কঠিন হবে না, বরং আরো দুর্বল হবে।

বাইরের নেতাদের মহানগরের নেতৃত্বে আনার আলোচনায় নগর নেতারা নাখোশ হলেও তাঁরা হাত গুটিয়েও বসে নেই। তাঁদের মধ্যে প্রভাবশালী দুই নেতার নেতৃত্বে একটি অংশ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। তাঁরা ঢাকার নেতাদের নেতৃত্বেই কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক ক্ষমতা যাতে বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়েও উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রের বোঝা মহানগরের ওপর চাপানোর কারণেই আন্দোলন সফল হয়নি। এ জন্য খেসারত দিতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিতে হবে।

নগর নেতারা বলছেন, মহানগরের রাজনীতি একেবারেই ভিন্ন। এখানে প্রভাবের পাশাপাশি অর্থেরও প্রয়োজন আছে। উড়ে এসে জুড়ে বসলেই হবে না। শত শত নেতাকর্মীর মামলার খরচ কে বহন করবে, তা কেউ ভাবে না। তাঁদের ভাষ্য, নগর নেতারা যদি না পারেন, বাইরের নেতারা আরো ব্যর্থ হবেন। যাঁদের নেতৃত্বে আনা হবে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো কেমন, সেখানকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের প্রতিরোধে তাঁদের ও তাঁদের কর্মী বাহিনীর কী ভূমিকা ছিল, তা আমলে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ূম কালের কণ্ঠকে বলেন, পুনর্গঠন চলমান প্রক্রিয়া, সেটি হবে। কিন্তু বর্তমান কমিটিকে ব্যর্থ বলা হচ্ছে কোন অর্থে, তা বোধগম্য নয়। এমন অভিযোগ তিনি মেনে নেবেন না। কারণ ২০১৭ সালে কমিটি গঠনের পরে বিএনপি বড় ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়নি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রায় একই মন্তব্য করেন। তাঁর প্রশ্ন, পরীক্ষাই হয়নি যেখানে, সেখানে উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণ হওয়ার বিষয় আসছে কেন?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলে নেতার সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি করতে পেরেছি, কর্মীর সংখ্যা সেই হারে পারি নাই। সে জন্য আজকে সবাইকে কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাদের নেতা। বাকি সবাই কর্মী।’

 



সাতদিনের সেরা