kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

ল্যাব খুলে মাদকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা!

► ‘আইস’ সিন্ডিকেটের প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৬
► দেশ-বিদেশে পড়াশোনা শেষে মাদক কারবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ল্যাব খুলে মাদকের পরীক্ষা-নিরীক্ষা!

মারাত্মক মাদক আইস ও ইয়াবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য ল্যাব খুলে বসেছিলেন তাঁরা। বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও কেমিক্যাল সংগ্রহ করে মাদকের সঙ্গে মেশাতেন। এভাবে ‘পাতন পদ্ধতিতে’ ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে আইসের পরিমাণ বাড়ানো হতো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে করা হতো ইয়াবার রং পরিবর্তন। এ ছাড়া তৈরি করা হতো ‘ঝাক্কি’। এই চক্রের প্রধানসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাব-৩-এর সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তৌফিক হোসাইন (৩৫), জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), আরাফাত আবেদীন ওরফে রুদ্র (৩৫), রাকিব

বাসার খান (৩০), সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭) ও খালেদ ইকবাল (৩৫)। তাঁদের কাছ থেকে আইস, ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা, গেম খেলার ১৩টি অস্ত্র, ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ ল্যাবরেটরির (মেথ ল্যাব) সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তৌফিক এই সিন্ডিকেটের প্রধান।

র‌্যাব জানায়, চক্রের সদস্য রুদ্র কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে উত্তরায় মেথ ল্যাবটি চালাতেন। সেখানে আইস ও ইয়াবা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হতো। ‘ঝাক্কি’ তৈরিতে পানির সঙ্গে ইয়াবা, ঘুমের ওষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ওষুধের তরল মেশাতেন বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন। তাঁরা সাধারণ ও ভেজাল উভয় ধরনের আইস সরবরাহ করাসহ নিজেরাও সেবন করতেন। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য সেবনের জন্য তাঁরা উত্তরায় একটি বায়িং হাউসের নামে বাসা ভাড়া করে গোপনে মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতেন।

র‌্যাবের তথ্য মতে, মূল হোতা ও সমন্বয়কারী তৌফিক। অর্থ জোগানদাতা জুবেইন ও খালেদ। রুদ্র কেমিস্ট হিসেবে ল্যাব পরিচালনা করতেন। এই চক্রে আরো ১০-১৫ জন রয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, জুবেইন লন্ডন থেকে বিবিএ পাস করেছেন। তৌফিক ও খালেদ বেসরকারি একটি ইউনিভার্সিটি থেকে যথাক্রমে বিবিএ ও এমবিএ পাস করা। রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসির পর আর পড়েননি। রুদ্রের নামে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। জুবেইন একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।

জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জানান, ইয়াবার আসক্তি তাঁদের পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আইস নেওয়া শুরু করেন। তাঁরা উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের নেশায় উদ্বুদ্ধ করতেন। ক্ষেত্রবিশেষে গোপন ভিডিও ধারণ করে তাদের ব্ল্যাকমেইলও করতেন। এ ছাড়া তাঁরা অস্ত্র দিয়ে ‘এমিং গেম’ জুয়া খেলতেন।

 



সাতদিনের সেরা