kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কাল

পদ ১০১, কমিটিতে থাকতে চান ৬৩১!

► ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদেরই নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা
► প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পর প্রথম সম্মেলন ঘিরে উচ্ছ্বাস

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পদ ১০১, কমিটিতে থাকতে চান ৬৩১!

কেটে গেছে ২০ বছর। সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর একবারও হয়নি সম্মেলন। সেই চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম সম্মেলনের মাহেন্দ্রক্ষণ দুই দফা পিছিয়ে এবার চলেই এলো। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন (ভার্চুয়াল)। সম্মেলনের মাধ্যমেই এবার আসবে নয়া নেতৃত্ব। ফলে কমিটিতে নিজের নাম দেখতে নেতাদের মধ্যে চলছে শীতল লড়াই। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা করে নিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ৬৩১ নেতা। এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সম্মেলন ঘিরে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের ডিজিটাল ব্যানার ও ফেস্টুনে এরই মধ্যে ছেয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন এলাকা।

অনেক নেতার ভাষ্য, কমিটিতে পদ পেতে এত বেশি আবেদন জমা পড়ার নজির এই প্রথম। আবেদনের স্তূপই জানান দিচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব নিয়ে মরণকামড় দিচ্ছেন নেতারা! নগর ও বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের সাবেক নেতারাসহ সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ ও পদহীন নেতারা এই তালিকায় রয়েছেন। কোনো কোনো নেতার অভিমত, দীর্ঘ ২০ বছর পর সম্মেলন ও নতুন কমিটি হওয়ার কারণেই পদপ্রত্যাশীর সংখ্যা এত বেশি। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদেরই বেশি তোড়জোড়।

 তাঁদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে তা পিছিয়ে ২৯ মে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তারিখও পিছিয়ে ১৯ জুন সম্মেলন ভার্চুয়ালি করার সিদ্ধান্ত হয়। সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রামের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন স্তরের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হয়েছিল ২০০১ সালের জুলাইয়ে। এটি ছিল সংগঠনটির প্রথম কমিটি।

এদিকে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটির নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন পদে স্থান দিতে নগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতারা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদপ্রত্যাশী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। এসব পদপ্রত্যাশীর জন্য নগরে সরকারি দল ও সংগঠনের স্থানীয় কয়েকজন নেতাও দৌড়ঝাপ করছেন।

সব মিলিয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ঘিরে চট্টগ্রামে সরকারি দল ও সংগঠনের রাজনীতিতে নানা আলোচনা চলছে। অনেকের মুখে ফিরছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের অনুসারীকে দেখতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের অন্তত ছয়টি পক্ষ আদাজল খেয়ে নেমেছে!

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে আগ্রহীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সরকারি সিটি কলেজের সাবেক ভিপি সাদেক হোসেন চৌধুরী পাপ্পু, নুরুল কবির ও আনোয়ারুল হোসেন বাপ্পী, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহ আলম ইমন, ইসলামিয়া কলেজের সাবেক সভাপতি আজিজউদ্দিন, লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত বেলাল, সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন, মনোয়ার জাহান মনি, দেবাশীষ নাথ দেবু, দেলোয়ার হোসেন ফরহাদ, সুজিত দাশ, মিনহাজুল আবেদিন সায়েম উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া আরো বিভিন্ন পদপ্রত্যাশীর মধ্যে মোহাম্মদ ফয়সাল বাপ্পী, নুরুল আবছার, শেখ মহিউদ্দিন বাবুসহ আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।

সম্মেলনের বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কে বি এম শাহজাহান বলেন, ‘২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে আমরা তিনজন (আহ্বায়ক ও অপর একজন যুগ্ম আহ্বায়ক) কমিটিতে থাকব না, তা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে সুখে-দুঃখে দীর্ঘদিন যাঁরা আছেন, তাঁদের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক। পরীক্ষিত ত্যাগী ও সক্রিয়রা নেতৃত্বে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এখানে কোনো গ্রুপিংয়ের রাজনীতি থাকবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এমন নেতৃত্ব আমরা তৈরি করে দিতে চাই।’

কমিটিতে পদ পেতে কত আবেদন জমা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চট্টগ্রামে ৪৩১টি এবং ঢাকায় ২০০টি আবেদন জমা পড়েছে। ঢাকায় যেসব আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। সম্মেলনের দিন দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের ভোটাভুটির মাধ্যমে অথবা কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত ও পরামর্শ এবং হাউস যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবে নতুন কমিটি হবে।’

পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে আমি কাজ করতে পারব।’

আরেক নেতা মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘সংগঠনের রাজনীতি করতে গিয়ে এরই মধ্যে কয়েকবার কারাগারে যেতে হয়েছে। অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছি। আমি দায়িত্ব পেলে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আরো শক্তিশালী, পরিচ্ছন্ন ও দক্ষ সংগঠনে পরিণত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করব।’

শাহ আলম ইমন বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে আছি। দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি না হওয়ায় অনেক জট হয়েছে। আমরা চাই তরুণদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব আসুক।’

 



সাতদিনের সেরা