kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

করোনা সনদ জালিয়াতি

নজরদারিতে আরো প্রতিষ্ঠান রাঘব বোয়াল

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নজরদারিতে আরো প্রতিষ্ঠান রাঘব বোয়াল

করোনা সনদ জালিয়াতির কারণে বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশযাত্রা নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যে নেগেটিভ সনদ নিয়ে যাওয়ার পর কয়েকজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁরা কিভাবে সনদ সংগ্রহ করে ইমিগ্রেশন পার হলেন তা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে নতুন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ১১ জন আর পুলিশের হাতে দুজন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মিলেছে চক্রের আরো অর্ধশতাধিক সদস্যের নাম; যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রাঘব বোয়ালও আছেন।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মাঈন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ ওরফে শাহেদ করিমসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাতেও এ নিয়ে জালিয়াতি থামেনি। নতুন করে আরো অনেক জালিয়াতচক্র গড়ে উঠেছে রাজধানীসহ সারা দেশে। তাদের ধরতে র‌্যাব তৎপর আছে।

র‌্যাব জানায়, করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, আল-জামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্টিমজ হেলথকেয়ার বিডি লিমিটেড ও মেডিনোভা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে (মিরপুর ব্রাঞ্চ) কালো তালিভুক্ত করে বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মহাখালীতে ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ পরিচালিত নমুনা সংগ্রহের বুথের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে খেয়াল রেখেছে র‌্যাব। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে থাকা প্রতারকচক্রের সদস্যদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে অন্তত ৪০টি জালিয়াতচক্র আছে, যারা করোনা সনদ নিয়ে কারসাজি করে থাকে। এর মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ২২টি। তাদের সঙ্গে অর্ধশতাধিক দালালচক্র কাজ করছে। তারা করোনা পজিটিভ হলেও নেগেটিভ সনদ দিচ্ছে। চক্রের ওই সব সদস্যের পাশাপাশি করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত চারটি প্রতিষ্ঠানসহ এই প্রতারণামূলক কাজে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি করোনা সনদ জালিয়াতচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। জালিয়াতচক্রের গ্রেপ্তার হওয়া সদস্যরা হলেন মো. মনির হোসেন (৩৭) ও মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রুবেল (২৪)। অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি মনিটর, একটি প্রিন্টার, একটি সিপিইউ, একটি কি-বোর্ড ও দুটি নকল টেস্ট রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, গত ৩০ মে বিকেল ৪টার দিকে বংশাল থানার নাজিম উদ্দিন রোডের আল মেডিক্যাল ফার্মায় অভিযান চালিয়ে জালিয়াতচক্রের সদস্য মনির হোসেন ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের অপারেশনের জন্য করোনার পজিটিভ রিপোর্ট পরিবর্তন করে তাঁরা নেগেটিভ রিপোর্ট তৈরি করতেন। ক্যান্সার আক্রান্ত একজন রোগীর অপারেশন করার জন্য দুই হাজার টাকার বিনিময়ে এর আগে তাঁরা একটি করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট তৈরি করে দেন। পরে ঢামেকের নাক কান গলা বিভাগে রিপোর্টটি নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ রিপোর্টটি ভুয়া বলে শনাক্ত করে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনা টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত অনেক সদস্যকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর কিছুদিন এই চক্রের সদস্যদের তেমন তৎপরতা ছিল না। ফের তাদের তৎপরতা চোখে পড়ছে। নতুন করে অভিযোগ ওঠা চারটি প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কর্মে জড়িত তাঁদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধান করে সত্যতা পেয়ে প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবহিত করেছি।’



সাতদিনের সেরা