kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

বিদায় সিনেমার কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

হানযালা হান   

১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদায় সিনেমার কবি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক কুমার ঘটক, মৃণাল সেনের মতো বাংলা চলচ্চিত্রের যে পরিচালককে বিশ্বের মানুষ মনে রাখবে, তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় দক্ষিণ কলকাতার নিজ বাসায় মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোক জানিয়ে টুইট করেছেন।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ছিলেন একাধারে কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। সিনেমায় তিনি কবিতার দৃশ্যকল্প তৈরি করতেন আর কবিতায় লিখেছেন সিনেমার শট। ফলে তাঁর শিল্পকর্ম একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘রোবটের গান’, ‘ছাতা কাহিনী’, ‘গভীর আড়ালে’ ইত্যাদি।

তিনি সিনেমায় নতুন জগৎ দেখিয়েছেন। তাঁর ক্যামেরায় শিকারি পাখি ধরা ভুলে যায় (চরাচর), রাজনীতিবিদ দুর্নীতি-অন্যায় করেন না (তাহাদের কথা), ধর্ম ও শহুরে আগ্রাসনমুক্ত গ্রাম (উত্তরা), মানুষ শুধু স্বপ্নকে অবলম্বন করে বাঁচতে চেষ্টা করে (স্বপ্নের দিন), শৈশবে ফিরে বাবার হাত ধরে আবার হাঁটে শিশু (কালপুরুষ)। একই সঙ্গে তিনি নিষ্ঠুর জগতের সঙ্গেও আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে একজন মানুষ বাঘ শিকারের জন্য আরেক মানুষকে টোপ হিসেবে ব্যবহার (টোপ) করে। ফলে তাঁর সিনেমায় পরাবাস্তবতা ও চরম বাস্তবতা একাকার হয়ে গেছে। ১৯৯৭ সালে নির্মিত তাঁর চলচ্চিত্র ‘লাল দরজা’য় অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেত্রী গুলশান আরা আক্তার চম্পা ও অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ।

তিনি স্পেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, এথেন্স আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড, বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর সিনেমা ভিন্ন ভিন্ন শাখায় ১২টি ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে।

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের জন্ম ১৯৪৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার আনাড়ায়। তাঁর বাবা তারাকান্ত দাশগুপ্ত পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ১২ বছর বয়সে কলকাতায় চলে আসেন বুদ্ধদেব। হাওড়ার দীনবন্ধু স্কুল এবং অর্থনীতি নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়াশোনা করেন। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শ্যামসুন্দর কলেজে শিক্ষকতা করেন। সিনেমা বানাবেন বলে একসময় চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর আর কখনো চাকরি করেননি।

তাঁর মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বুদ্ধদাকে কেবল বাংলা ছবির পরিচালক বললে কম বলা হবে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অপরিসীম অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে সারা বিশ্বে তিনি সমাদৃত। ওনার সঙ্গে টরন্টোর মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে গিয়ে দেখেছি, বাংলা ছবি বলতে তাঁরা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের নাম উচ্চারণ করেন। তাঁর ছবি নিয়ে দেশের বাইরে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখার সুযোগ পেয়েছি আমি।’