kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

মিনুর মুক্তি আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট

নিরপরাধ ব্যক্তিকে জেল খাটানো দুর্ভাগ্যজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরপরাধ ব্যক্তিকে জেল খাটানো দুর্ভাগ্যজনক

অর্থের বিনিময়ে হোক আর অন্য যেকোনো কৌশলেই হোক, প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে নিরপরাধ ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা দুর্ভাগ্যজনক। চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমীর পরিবর্তে কারাবন্দি নিরীহ মিনুর মুক্তি আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট এই মন্তব্য করেছেন।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই মন্তব্য করেন। অসমাপ্ত থাকায় আজ সোমবার পুনরায় শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতে মিনুর মুক্তির আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

মিনু কিভাবে অন্যের হয়ে জেলে গেছেন তা আদালতে তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, ‘গত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনা ঘটেছে। একজনের নামে আরেকজন জেলে থাকে।’ তিনি বলেন, আসল আসামি শনাক্তকরণে অনেক পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে আইবলিং এমন একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শনাক্ত করলে কোনো ভুল হবে না। পুরো ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধান হওয়া দরকার।

ড. মো. বশির উল্লাহ বলেন, ‘আমরাও চাই দোষীদের শাস্তি হোক। নিরপরাধ কেউ কারাগারে থাকুক সেটা চাই না।’

জানা গেছে, মোবাইল ফোন নিয়ে বিবাদের জের ধরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে পোশাক কারখানার কর্মী কোহিনুর বেগম খুন হন। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর লোহাগাড়ার গোরস্তান মাঝেরপাড়া গ্রামের আনু মিয়ার মেয়ে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর স্বামীর নাম ছালেহ আহমদ। ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আদালত থেকে জামিন পান কুলসুমী। পরে এই মামলায় বিচার শেষে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এক রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। কুলসুমী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে পলাতক দেখিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়।

ওদিকে স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর তিন সন্তান নিয়ে চট্টগ্রামে ভাসমান বস্তিতে থাকতেন মিনু। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মিনু ও তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণের প্রস্তাব দেন কুলসুমী। বিনিময়ে একদিন আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানানো হয় মিনুকে। ওই প্রস্তাবে রাজি হয়ে কুলসুমী সেজে ২০১৮ সালের ১২ জুন চট্টগ্রাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মিনু। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি।

জানা যায়, মিনু কারাগারে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম কয়েক মাস তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণ দিলেও পরে আর খোঁজ নেননি কুলসুমী। এ অবস্থায় মিনু পুরো ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস করে দেন। গত ১৮ মার্চ বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খানের নজরে আসে। তিনি অনুসন্ধান করে সত্যতা পেয়ে বিষয়টি ২১ মার্চ রায় প্রদানকারী চট্টগ্রামের আদালতের নজরে আনেন। ২২ মার্চ কারাগার থেকে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। চট্টগ্রামের আদালত মিনুর ঘটনা লিপিবদ্ধ করে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য একটি নথি ২৩ মার্চ হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। ৩১ মার্চ বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

 



সাতদিনের সেরা