kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

চলন্ত বাসে তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

► আদালতে চালকের স্বীকারোক্তি
► বাকি পাঁচজন তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাভার   

৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চলন্ত বাসে তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

ঢাকার কাছে সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক তরুণীকে (২২) দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর বাসটির চালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার সিঅ্যান্ডবি বাইপাস সড়কে ওই তরুণীর চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে তাঁকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার মেডিক্যাল পরীক্ষার পর ভুক্তভোগী তরুণীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

টহল পুলিশ নিউ গ্রামবাংলা পরিবহনের বাসের চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বাসটিও জব্দ করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজধানীর তুরাগ থানাধীন গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা এলাকার আতিয়ারের ছেলে সাজু (২০), বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের শামসুল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০), একই জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারী এলাকার সুলতান মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (২৪), একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহাগ (২৫) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার জহুর উদ্দিনের ছেলে মনোয়ার (২৪)।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই তুরাগ থানার কামারপাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

তাঁদের মধ্যে বাসচালক সুমন মিয়া (২৪) আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

যেভাবে ঘটনা : আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুই সন্তানের জননী ওই তরুণী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় স্বামীসহ বসবাস করেন এবং একটি তৈরি পোশাক কারখানায় হেলপার হিসেবে কাজ করেন। স্বামী রিকশাচালক। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাট।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ওই নারী তাঁর বোনের জন্য একটি মোবাইল ফোনসেট কিনে শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জের বেউতাঘাট এলাকায় বোনের বাসায় আসেন। ওই দিনই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য বাসে ওঠেন। রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে এসে নামেন। এরপর নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার জন্য অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় ওখানে পূর্বপরিচিত আনোয়ার হোসেন ওরফে নাজমুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এ সময় হেলপারের ডাকাডাকিতে তাঁরা দুইজন রাত ৯টার দিকে টঙ্গীর স্টেশন রোড পর্যন্ত যাওয়ার জন্য নিউ গ্রামবাংলা মিনিবাসে ওঠেন। বাস গন্তব্যে যাওয়ার আগেই অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয় এবং অন্য কয়েকজন পরিবহন শ্রমিককে ওঠান বাসের শ্রমিকরা। এরপর বাসটি আব্দুল্লাহপুরের দিকে না গিয়ে উল্টোদিকে আশুলিয়ার দিকে ফিরে আসতে থাকে। বাসটি আশুলিয়ার গরুর হাট এলাকা হয়ে কলমার দিকে আসার সময় তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করেন বাসের চালক সুমন, সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামসহ ছয়জন। এ সময় সঙ্গী নাজমুল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়। বাসটি নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে গলফ ক্লাবের কাছে পৌঁছলে ওই নারী ও তাঁর সঙ্গী চিৎকার করলে মহাসড়কে টহলরত সাভার হাইওয়ে পুলিশ গাড়িটি আটক করে। রাতেই ওই তরুণী মামলা করেন। গতকাল সকালে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাসপাতালে ভুক্তভোগী তরুণী : গতকাল দুপুরে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ওই তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষা হয়। এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি জানান, ওই তরুণী বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রয়েছেন।

বাসচালকের স্বীকারোক্তি, পাঁচজন রিমান্ডে : তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে গতকাল ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে সোপর্দ করা হয়। আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, তাঁদের মধ্যে বাসচালক সুমন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত সুমনের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের জন্য বাকি আসামি আরিয়ান, সাজু, সোহাগ, মনোয়ার ও সাইফুলের পাঁচ দিন করে রিমান্ড চান তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর শুনানি শেষে তাঁদের প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক শাহজাদী তাহমিদা। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশ পরিদর্শক মেসবাহ উদ্দীন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় চলন্ত বাসে এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর তাঁকে ঘাড় মটকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়ার ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

 



সাতদিনের সেরা