kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

‘সম্পর্কের ক্ষতি চাননি রাষ্ট্রদূত’

► অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছি না : চীন
► বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করি : যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




‘সম্পর্কের ক্ষতি চাননি রাষ্ট্রদূত’

ছবি: ইন্টারনেট

‘কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ (কোয়াড)’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর পররাষ্ট্রসচিবের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে চীনের উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে কোয়াড নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।

ঢাকায় কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সঙ্গে গত সোমবার ভার্চুয়াল আলোচনায় কোয়াড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, বাংলাদেশ কোয়াডের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হলে চীনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনা রাষ্ট্রদূতের ওই বক্তব্যে কূটনৈতিক ও বিশ্লেষক মহল বিস্ময় প্রকাশ করে। পরদিন মঙ্গলবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে।

ওদিকে সেদিন রাতেই ওয়াশিংটন ডিসিতে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বাংলাদেশে চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য আমরা আমলে নিয়েছি। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নেওয়ার অধিকারকে আমরা সম্মান করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অবিশ্বাস্য জোরালো সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে মানবিক সহায়তা ইস্যু—এ ধরনের অনেক ইস্যুতে আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করি।’

নেড প্রাইস বলেন, ‘কোয়াড নিয়ে আমরা আগেও বলেছি। কোয়াড হলো যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো সমমনা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অনানুষ্ঠানিক, প্রয়োজনীয় ও বহুপক্ষীয় কাঠামো। এটি মূলত উন্মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে আমাদের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।’

এদিকে কোয়াড নিয়ে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রসচিবের কাছে চীনের রাষ্ট্রদূত ব্যাখ্যা দেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের ‘অ্যাগ্রেসিভ’ (আগ্রাসী) প্রশ্নে খেই হারিয়ে ফেলে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে তিনি কোনোভাবেই বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষতি চান না। ‘অপ্রাসঙ্গিভাবে’ তিনি ওই মন্তব্য করে ফেলেছিলেন।

এদিকে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে গত বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়েও প্রশ্ন ওঠে। সেখানে রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করেই আপনাদের বলতে পারি, চীন ও বাংলাদেশ অত্যন্ত কাছের প্রতিবেশী। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচটি নীতির ভিত্তিতে আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার করেছি। আমরা সব সময় পারস্পরিক সম্মান এবং মৌলিক স্বার্থ ও বড় উদ্বেগগুলোর কথা বিবেচনায় নিয়েই একে অপরকে সহযোগিতা করি।’

হুয়া চুনইং আরো বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, কোয়াড কী ধরনের কাঠামো। চীন নির্দিষ্ট কিছু দেশের একচ্ছত্র চক্র সৃষ্টি, চীনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বিদ্বেষ সৃষ্টির বিরোধিতা করে।’