kalerkantho

সোমবার । ৭ আষাঢ় ১৪২৮। ২১ জুন ২০২১। ৯ জিলকদ ১৪৪২

বসুন্ধরার উপহার

উচ্ছ্বসিত দরিদ্র মানুষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



উচ্ছ্বসিত দরিদ্র মানুষ

গাজীপুরে দুস্থদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে গতকাল উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার এই কালবেলায় কর্মহীন, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্তে শত শত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ঈদ উপহার। গতকাল সোমবার এই উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে গাজীপুর সদর, কাপাসিয়া; ঢাকার আশুলিয়া, নবীনগর, ধামরাই; নারায়ণগঞ্জ সদর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ; ময়মনসিংহ সদর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া; নরসিংদীর মনোহরদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। উপহার পেয়ে আবেগ্লাপুত হয়ে অনেকেই কেঁদে ফেলেছেন; কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আশীর্বাদও করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপকে। আর তাঁদের বক্তব্যেই উঠে এসেছে নিম্নবর্গের মানুষের দুর্দিনের কথা।

গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধবা আছিয়া বেগম (৬২) কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘তিনবেলা ভাত জোগাড় করা যেহানে (যেখানে) অনিশ্চিত, হেন (সেখানে) ঈদের সেমাই-চিনি কেনা ছিল কল্পনার বাইরে। দুই পা অচল, তার ওপর লকডাউন। তাই কোন হানে (কোথাও) যাইতাম পারতাছিলাম না। আচমকা ফেরেশতার মতো হাজির হইছে বসুন্ধরা গ্রুপ। খালি সেমাই-চিনি না, চাল-ডাল, তেল, ছোলা, লবণসহ ঈদে যা লাগে সবই দিছে বসুন্ধরা। বসুন্ধরার মালিক গরিবের বন্ধু। আল্লাহ তাঁরে বাঁচায়া রাখুন, হের আরো উন্নতি করুক।’

জয়দেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আছিয়ার মতো আরো ৪০০ অসহায় ব্যক্তি গতকাল ঈদ উপহার পেয়েছেন। সেখানে দুই হাত তুলে মোনাজাত করতে দেখা গেল বৃদ্ধা সমলা বেগমকে। কথা বলে জানা গেল, তাঁর ঘরে অসুস্থ স্বামী। ছেলে থেকেও নেই। মেয়ের ঘরের দুই নাতিসহ তাঁর চারজনের সংসারে শুধু অভাব আর অভাব। লকডাউনের জন্য ভিক্ষাও করতে পারেন না। সমলার কথায়, ‘ঈদে দুই নাতির মুখে ভালো-মন্দ তুলে দেওয়ার জোগাড় ছিল না। ওই চিন্তা দূর করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আমি অনেক খুশি। রোজা রেখে মন ভরে দুই হাত তুলে বসুন্ধরার জন্য দোয়া করছি।’

কালের কণ্ঠ’র শুভসংঘের সহযোগিতায় এই উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উপস্থিত গাজীপুর সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক এস এম আনোয়ারুল করিম, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দীন, ভাষা শহীদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক, গাজীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান, মো. খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. শামসুল হক রিপন, গাজীপুর শুভসংঘের আহ্বায়ক মুসাফির ইমরান, সাবেক সহসভাপতি আফরিনা জাহান উর্মি, সংগঠনের সদস্য সজিব, আরিফ, শফিক, রিফাত, সাগর, হাসান, মামুন, ফারহানা, নিরব, শিহাব, কাকন, সুরভি, সাউদা প্রমুখ।

মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সরকার সাধ্যমতো সাহায্য দিচ্ছে। তার পরও লকডাউনের কারণে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ কষ্টে রয়েছে। সামনেই ঈদে। তাদের কথা চিন্তা করে ঈদ উপহার নিয়ে এগিয়ে আসায় বসুন্ধরা গ্রুপকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তার কাজ চালিয়ে যাবে।’

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চর খিরাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বর্ণমালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বসুন্ধরার উপহার বিতরণ করা হয় অসহায় মানুষের মাঝে। দুই স্থানেই আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমানত হোসেন খান। চর খিরাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ মো. নিজাম উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ফারুক হোসেন মোল্লা, অধ্যাপক মুমিনুল ইসলাম কাঞ্চন, চর খিরাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. রাহিমা আক্তার, বন বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম। আলোচনাসভা সঞ্চালনা করেন মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. মিনহাজুল ইসলাম।

আর বর্ণমালা স্কুলের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোফাজ্জল হোসেন, শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম, মো. আলমগীর ভূঁইয়া, মিনহাজুল ইসলাম, নাদিম হাসান তপু, মুছা শেখ, মোস্তাফিজুর রহমান ফাহিম, ওসমান আলী, সানজিদা ওমরা। উপহারসামগ্রী বিতরণকালে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বর্ণমালা অ্যালামনাই ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

গতকাল বিকেলে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার ইয়ারপুর গ্রামের কয়েক শ অসহায় মানুষের হাতে বসুন্ধরা গ্রুপের ঈদ উপহার তুলে দেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘ বন্ধুরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সুমন আহমেদ ভুইয়া, দিব্য ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবেল আহমেদ এবং শুভসংঘ শাখা কমিটির উপদেষ্টা আবুল বাশার ঝন্টু।

উপহার পেয়ে রমিজা আক্তার বললেন, ‘পরিবার নিয়ে আশুলিয়া থাকি। স্বামী কখনো কাজ পায় কখনো পায় না। আমারও একই অবস্থা। সংসারে দুইটা পোলাপান আছে। খাওয়া নিয়েও মাঝেমধ্যে কষ্ট হয়। এই জিনিসগুলো পাইয়া কিছুদিন অন্তত তিন বেলাই খাইতে পারমু। আল্লায় বসুন্ধরার ভালা করুক।’

একই দিন ঢাকার নবীনগরের নিরিবিলি এলাকার একটি বস্তির শতাধিক অতিদরিদ্র মানুষের হাতেও বসুন্ধরার ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রানা শেখ এবং শুভসংঘের জয় নাথ, সাকিবুল ইসলাম, সোপান সুলতানা প্রমুখ। বসুন্ধরার ঈদ উপহার পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে দেখা যায় সুখের হাসি।

ঢাকার ধামরাইয়ের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে অসহায়, দুস্থ, দিনমজুর ও হকারদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন শুভসংঘের বন্ধুরা। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ধামরাই থানার ওসি আতিকুর রহমান ঈদসামগ্রী অসহায়দের হাতে তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আদনান হোসেন।

নারায়ণগঞ্জে বসুন্ধরা গ্রুপের ঈদ উপহার সামগ্রী পেয়েছে ৩০০ অসহায় মানুষ। গতকাল বিকেলে শুভসংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলার সহযোগিতায় এই ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয় ফতুল্লার হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন, হরিহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বেগম, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রতন প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা শিল্পনগরী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গতকাল সকালে বসুন্ধরার ঈদ উপহার পেয়ে হাসি ফুটেছে চার শতাধিক পরিবারে। অনুষ্ঠানে সোনারগাঁ উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, ‘দেশ ও মানুষের কল্যাণে স্লোগান নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিটি দুর্যোগের মুহূর্তে অসহায় মানুষের পাশে আছে। শুভ কাজে সবার পাশে স্লোগান নিয়ে আমরাও কালের কণ্ঠ’র শুভসংঘের সঙ্গে কাজ করে গর্ব বোধ করি।’

এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম। সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা শুভসংঘের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম। ত্রাণ বিতরণে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন শুভসংঘ ত্রাণ কমিটির সভাপতি হাজী আলম চাঁন, সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফসহ ত্রাণ কমিটির সব সদস্য ও শুভসংঘের বন্ধুরা।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়ে গতকাল দুপুরে ২৫ কেজি ওজনের বসুন্ধরার উপহার (চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস) তুলে দেওয়া হয় ৩০০ অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের হাতে। কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন। উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের মিয়া, প্রেস ক্লাব সভাপতি নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদার, প্রথম আলো প্রতিনিধি রমেশ কুমার পার্থসহ কয়েকজন রাজনীতিক।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বসুন্ধরার উপহার পেয়েছে তিন শতাধিক অসহায় মানুষ। উপহার বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ, কমিউনিটি পুলিশিং শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ।

অনুষ্ঠানে শুভসংঘ ফুলবাড়িয়া শাখার সভাপতি প্রভাষক নির্মল বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাজাহারুল ইসলাম রাসেল।

এদিকে ময়মনসিংহ নগরীর সংবাদপত্র বিক্রেতাদের হাতেও পৌঁছেছে বসুন্ধরার ঈদ উপহার। গতকাল বিকেলে নগরীর মুকুল নিকেতন স্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে এই উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আফছার। আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি শংকর সাহা, ময়মনসিংহ বুক সেন্টারের সহকারী পরিচালক আজিজুর রহমান, ময়মনসিংহ সংবাদপত্র হকার্স সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাংবাদিক এ এইচ এম মোতালেব, সাংবাদিক মইন উদ্দিন রায়হান প্রমুখ।

ঈদ এসে গেলেও আমাদের খোঁজ কেউ রাখেনি। করোনার এই লকডাউনে কামকাজ নেই, কী খেয়ে বেঁচে আছি কেউ খোঁজ রাখেনি। আজ বসুন্ধরা গ্রুপ আমাদের যে উপহার দিয়েছে তা পেয়ে আমরা মহাখুশি। ঈদসামগ্রী পেয়ে আমাদের সন্তানাদি নিয়ে দু’বেলা খেয়ে ঈদের আনন্দ করতে পারব—গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বসুন্ধরার ঈদসামগ্রী পেয়ে এমন অনুভূতি জানায় অসহায় ব্যক্তিরা। শুভসংঘ ত্রিশাল উপজেলার সভাপতি ফাতেহ উল শিশিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র এ বি এম আনিছুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুয়েল সরকার, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ত্রিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সরকার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, ত্রিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এইচ এম জোবায়ের হোসেন, ত্রিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাছান নিউটন, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুর রহমান ফরহাদ প্রমুখ।

ময়মনসিংহের ভালুকায় গতকাল দুপুরে তামাট ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরার ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ। উপজেলা শুভসংঘের সভাপতি রবিন খানের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাঈন উদ্দিন, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শমীম আল মামুন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম লিটন, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আজাদ এম এ মান্নান প্রমুখ। পরে বসুন্ধরা গ্রুপের কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন তামাট ইসলামিয়া মাদরাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে বসুন্ধরার উপহার নিতে গতকাল বিকেলে জড়ো হয়েছিল অসহায় মানুষ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপ ও কালের কণ্ঠ পত্রিকাকে এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কালের কণ্ঠ’র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবুর সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন, শেখ মো. আনার, মো. শাহ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. লোকমান হোসেন, যুবলীগ নেতা আলী আজম, মো. জসিম উদ্দিন রানা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন শুভসংঘের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মো. হেদায়েতুল আজিজ মুন্না। শুভসংঘের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শারমীন সুলতানা, ডা. নুরুল হুদা পাভেল, সুমন রায়, হাবিবুর রহমান পারভেজ, গাজী তানভীর, চয়ন বিশ্বাস, প্রসন্ন দাস, সৌমেন পাল, মাজহারুল করিম অভি প্রমুখ।

বসুন্ধরা ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে নরসিংদীর মনোহরদীতেও। শুভসংঘ মনোহরদী উপজেলা শাখার সহযোগিতায় মনোহরদী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জায়গায় এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মনোহরদী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঈদ উপহার বিতরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী পৌরসভার কাউন্সিলর মাসুদ রানা, কালের কণ্ঠ’র মনোহরদী উপজেলা প্রতিনিধি মুহা. ইসমাইল হোসাইন খান, শুভসংঘের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল, মনোহরদী উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু, সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক তারেক হোসেন তালাশ, সদস্য আজমেরী সুলতানা, মো. সুমন মিয়া ও কামাল হোসেন।

বিধবা নিঃসন্তান মনোয়ারা বেগম (৬০) বলেন, ‘আয়-রোজগার না থাকায় খুব কষ্টে দিন পার করছি। অভাবের এই সময়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ঈদ উপহার পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ; নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এবং প্রতিনিধি, মনোহরদী (নরসিংদী), ত্রিশাল (ময়মনসিংহ), ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ), সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)