kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

কালের কণ্ঠ ও বিকনের ওয়েবিনার

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৪ জনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং ৭০ হাজারেরও বেশি শিশু এই থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রতিবছর ছয় হাজার শিশু বিভিন্ন রকমের থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো সচেতনতা। কালের কণ্ঠ ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘থ্যালাসেমিয়া রোগ : সচেতনতাই প্রতিরোধ’ শীর্ষক ওয়েবিনারের গতকাল সোমবার অতিথি আলোচকরা এসব বিষয় তুলে ধরেন। আগামী ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে সচেতনতা বৃদ্ধি করে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

ওয়েবিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আর এ সচেতনতা কিভাবে তৈরি করা যায় সে বিষয়ে মিডিয়াকে নানাভাবে যুক্ত করতে হবে। কারণ কোনো রোগ হওয়ার আগে যদি সচেতন হওয়া যায় এর চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না। তাই বলব, সচেতনতা অতি জরুরি। আর আমরা মিডিয়ার পক্ষ থেকে সচেতনতা তৈরির কাজটি সব সময় করে থাকি।’

ওয়েবিনারের সভাপতি ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এবাদুল করিম এমপি বলেন, ‘সারা বিশ্বের জন্য থ্যালাসেমিয়া একটি ভয়ংকর হুমকি হিসেবে আসছে। এই হুমকি আসার আগেই আমরা আমাদের দেশকে কিভাবে রক্ষা করতে পারি—এ বিষয়ে বিজ্ঞদের মতামত জরুরি। এখন সোশ্যাল মিডিয়াও ভালো ভূমিকা রাখছে। কিছুদিন যদি থ্যালাসেমিয়ার ওপরে কাজ করা যায়, তাহলে বিয়ের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষসহ ঘটকও থ্যালাসেমিয়ার বিষয়ে জানতে চাইবেন। বিয়ের সময় থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা ও সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চলে আসবে বলে আশা করি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, থ্যালাসেমিয়া এমন একটি রোগ যেটা রক্তশূন্যতা তৈরি করে। দুই ধরনের থ্যালাসেমিয়ার মধ্যে মেজর যেটা সেটা বেশি জটিল, মাইনরটা তেমন জটিল না। থ্যালাসেমিয়া হলে ব্যক্তি বেশি দুর্বল থাকে, সেটা অনেকে প্রথম দিকে বুঝতে পারে না। প্রস্রাবও ডার্ক হয়, শরীরের গ্রোথও দেরিতে হয়। মা-বাবার থ্যালাসেমিয়া যদি  থাকে, তাহলে কিন্তু জন্মগতভাবে সন্তানের হয়। থ্যালাসেমিয়া হলে ট্রিটমেন্টের চেয়ে বেশি জরুরি হলো বেশি আয়রন যাতে না হয়। রক্ত পরিসঞ্চালন একমাত্র চিকিৎসা। সম্প্রতি একটি ট্রিটমেন্ট শুরু হয়েছে থেলাসেমিয়া রোগীদের স্টেমসেল ট্রান্সপ্লান্ট। এটা করলে থ্যালাসেমিয়া থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, থ্যালাসেমিয়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিরোধযোগ্য। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন সেটা করতে রাজি আছি। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের গ্রোথ থেমে যায়। কিছুদিন পর পর রক্ত দিতে হয়। পরবর্তী সময়ে সপ্তাহে দু-তিনবার রক্ত দিতে হয়। এক সময় অভিভাবকদের এই সক্ষমতাও থাকে না। আক্রান্ত বাচ্চাদের এবং তাদের মা-বাবার জীবন দুর্বিষহ হয়ে যায়।   

ওয়েবিনারে আরো আলোচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক কাজী হাবিবুল বাশার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমসিএইচ-সার্ভিসেস) ডা. মোহাম্মদ শরীফ, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মাসুমা রহমান, বিএসএমএমইউর মেডিসিন অনুষদের ডিন ও হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান প্রফেসর ডা. মাসুদা বেগম, ঢাকার এভারকেয়ার হসপিটালের হেমাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর ডা. আবু জাফর মো. সালেহ, কেয়ার বাংলাদেশ হেলথ প্রগ্রামের ডিরেক্টর ড. ইখতিয়ার উদ্দিন খন্দকার প্রমুখ।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অনকোলজি বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক খালেদা আক্তার সিনথিয়া, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী ফারহিন ইসলাম এবং ঘটক ‘পাখি ভাই প্রা. লি.’ এর চেয়ারম্যান কাজী আশরাফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠ’র ডেপুটি চিফ রিপোর্টার তৌফিক মারুফ।