kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বিদেশফেরত যাত্রীদের বিষয়ে থানাকে জানাতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশফেরত যাত্রীদের বিষয়ে থানাকে জানাতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধি-নিষেধের মেয়াদ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছে সরকার। গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে বিধি-নিষেধের সময় বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, দোকান ও শপিং মল খোলার সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে গণপরিবহনের বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ গণপরিবহন ৫ মে পর্যন্ত বন্ধই থাকছে।

আদেশে আরো বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে যেসব যাত্রী টিকা নেওয়ার সনদ ও করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসবেন, তাঁরা নিজ বাড়িতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের সংশ্লিষ্ট থানায় আগমন ও কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি জানাতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীন থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে যাঁদের কেবল কভিডমুক্ত সনদ থাকবে, তাঁদের সরকার নির্ধারিত ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে চিকিৎসকরা তাঁদের পরীক্ষা করে সম্মতি দিলে তাঁরা নিজেদের বাড়ি ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের বাকি সময় শেষ করবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদেরকেও সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করতে হবে। অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীরা সরকার নির্ধারিত হোটেলে নিজ খরচে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে কঠোর বিধি-নিষেধের দ্বিতীয় ধাপে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। যদিও ওই সময় থেকে শিল্প-কলকারখানা খোলা আছে। এর মধ্যে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত আসে গত রবিবার থেকে।

বর্তমান বিধি-নিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। ‘লকডাউনের’ শুরুতে শপিং মলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এবার দোকান ও শপিং মল খোলার সময় বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হলো। এ ছাড়া ব্যাংকে লেনদেন আগের মতোই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চালু থাকবে। আকাশপথে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যেভাবে চলছিল সেভাবেই চলবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা গতকালের আদেশে যেসব বিষয়ে নতুন করে বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—স্থল, নৌ বা বিমানে করে ভারত থেকে বাংলাদেশে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন এর আওতামুক্ত থাকবে। আর ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ বাংলাদেশিরা ভারতে বাংলাদেশ মিশনের অনুমতি বা অনাপত্তিপত্র নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

আসন্ন ঈদের নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এরই মধ্যে জারি করা হয়েছে।